📌 টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উফুল্কী গ্রামের ঘোষপাড়ায় শতাধিক পরিবারের জীবিকা হয়ে উঠেছে দুধ ভাঙানোর যন্ত্র। বিদ্যুৎ ও হাত চালিত যন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ মণ দুধ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হচ্ছে ঘি, ছানা ও টক দই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টক দই উৎপাদনে লাভ বেশি হওয়ায় তাঁরা এদিকেই বেশি ঝুঁকছেন
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুকী ইউনিয়নের উফুল্কী গ্রামের ঘোষপাড়া এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকেই মুখরিত হয়ে উঠেছে দুধ ভাঙানোর যন্ত্রের শব্দে। স্থানীয়রা এই যন্ত্রকে ‘দুধ ভাঙানোর মেশিন’ নামে পরিচিত। পূর্বপুরুষের আমল থেকে এখানকার অধিবাসীরা দুধ থেকে ঘি, ছানা ও টক দই তৈরি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঘোষপাড়ায় শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ দুধ ভাঙানোর যন্ত্র চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন
- 📌 প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ মণ দুধ প্রক্রিয়াজাত করে ঘি, ছানা ও টক দই তৈরি করা হয়
- 📌 হাত চালিত যন্ত্রে ঘণ্টায় প্রায় আট মণ দুধ ভাঙানো যায়, বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রে আরও বেশি
- 📌 এক মণ দুধ থেকে গড়ে সোয়া কেজি ঘি এবং সাত থেকে আট কেজি ছানা পাওয়া যায়
- 📌 টক দই উৎপাদনে লাভ বেশি হওয়ায় স্থানীয়রা এদিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন
📰 বিস্তারিত
স্থানীয় দীপক কুমার ঘোষ জানান, ঘোষপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৮০ জন এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ জন এই ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পূর্বপুরুষের আমল থেকে তাঁরা দুধ থেকে ঘি, ছানা ও টক দই তৈরি করে আসছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই কাজ চলে। কোনো কোনো দিন দুধের পরিমাণ কমে গিয়ে ৫০ মণে নেমে আসে।
দীপক কুমার ঘোষের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে এক মণ দুধ কিনতে খরচ হয় ২ হাজার ৪০০ টাকা। শ্রমিকের মজুরি ও জ্বালানির খরচসহ মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯০০ টাকা। এক মণ দুধ থেকে পাওয়া ঘি ও ছানা বিক্রি করে আয় হয় ৩ হাজার ৪০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৬০ টাকা। এতে লাভ থাকে মাত্র ৩০০ টাকার কিছু বেশি। অন্যদিকে, টক দই তৈরি করে বিক্রি করলে আয় হয় প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা, যেখানে লাভ হয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা।
স্থানীয় গীতা রানী ঘোষ জানান, তাঁরা পণ্যের অর্ডারের উপর ভিত্তি করে দুধ সংগ্রহ করেন। মাল বেশি গেলে ১২ থেকে ১৪ মণ দুধ আসে, আবার কম গেলে ৮ থেকে ১০ মণ দুধ আসে। তিনি বলেন, ‘দুধ ভাঙানোর সময় আমি সাহায্য করি। পুরুষরা যন্ত্র চালালে আমি দুধ মেশিনের ওপর দিয়ে দিই।’
স্থানীয় আবদুল খালেক জানান, তাঁরা ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘শীতকালে মানুষ ঘি বেশি খায় বলে তখন দামও একটু বেশি থাকে।’ অন্যদিকে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সুশীল চন্দ্র গোপ জানান, ঘোষপাড়ার শতাধিক পরিবারের সদস্য এই পেশার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া এখান থেকে টক দই পাইকারি কিনে ফেরি করে বিক্রি করেন ৮০ জনের বেশি মানুষ।
"পৃথিবী সৃষ্টি হইছে পর থিকাই দুধ–দইয়ের ব্যবসা আছে। আমাগো পূর্বপুরুষের এই ব্যবসা যুগ যুগ ধইরা চলতাছে।" — অনিল চন্দ্র ঘোষ, স্থানীয় বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উফুল্কী গ্রাম, জামুকী ইউনিয়ন, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দীপক কুমার ঘোষ, গীতা রানী ঘোষ, সুশীল চন্দ্র গোপ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ থেকে ৮০ মণ (প্রতিদিন), ৮০ জন (পরিবার), ৬০ টাকা (প্রতি কেজি দুধের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!