📌 এলডিসি উত্তরণের পর তৈরি পোশাক খাতের সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তাই ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর খাতকে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবর্তনের এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে বিরাট সম্ভাবনা
তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৫৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যা মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ। তবে এলডিসি উত্তরণের পর এই খাতের বিশেষ সুবিধা সংকুচিত হয়ে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এলডিসি উত্তরণের পর তৈরি পোশাক খাতের বিশেষ সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- 📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স খাতকে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন
- 📌 বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবর্তনের কারণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে
- 📌 অটোমেশন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫৬ শতাংশ চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে
- 📌 সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে
📰 বিস্তারিত
গত চার দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক শিল্প। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৫৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলারই এসেছে এই খাত থেকে, যা মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ। তবে এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সংকুচিত হয়ে আসবে। ইইউ-এর 'এভরিথিং বাট আর্মস' (ইবিএ) সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে এবং তার পরিবর্তে জিএসপি+ সুবিধা চালু হবে, যার সাথে যুক্ত থাকবে সুশাসন ও শ্রম অধিকারের কঠোর শর্তাবলী।
এছাড়া বৈশ্বিক অটোমেশন প্রযুক্তির প্রভাবেও তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫৬ শতাংশ চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে ম্যাককিনসির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার নভোথিয়েটারে আয়োজিত ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং বিইএআর সামিট-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স খাতকে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটছে। গত ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ডিজাইন খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাইওয়ান অতিধুনিক চিপ উৎপাদনে আধিপত্য বিস্তার করেছে, দক্ষিণ কোরিয়া মেমোরি চিপ নিয়ন্ত্রণ করছে, আর মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও চীন অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং ও প্যাকেজিং (এটিপি) খাত পরিচালনা করছে। তাইওয়ানের টিএসএমসি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক চিপের প্রায় ৯২ শতাংশ উৎপাদন করে। তবে তাইওয়ান প্রণালীর সংকটের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
"কারখানাগুলো প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। কেবল টিএসএমসি-ই তাইওয়ানের মোট বিদ্যুতের ৫-৬ শতাংশ ব্যয় করে। কোনো দেশ যদি এই ধরণের কারখানা স্থাপন করতে চায়, তবে কেবল"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ শতাংশ, ৫৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ৫৬ শতাংশ, ৯২ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!