📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চিংড়ির উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। গবেষণা দেখায় ম্যানগ্রোভভিত্তিক চিংড়ি চাষে মৃত্যুহার কমে ৫০ শতাংশে, উৎপাদন বাড়ে এবং অর্গানিক চিংড়ির সম্ভাবনা তৈরি হয়। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নিতে চাইছে
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চিংড়ির উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে বাংলাদেশে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ম্যানগ্রোভভিত্তিক চিংড়ি চাষ একটি সম্ভাবনাময় সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে। গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে চিংড়ির মৃত্যুহার কমে ৫০ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং উচ্চমূল্যের অর্গানিক চিংড়ির উৎপাদন বাড়বে। গত বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে সমন্বিত ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই বিষয় আলোচিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ির মৃত্যুহার ৬৪ শতাংশ, ম্যানগ্রোভভিত্তিক পদ্ধতিতে তা কমে ৫০ শতাংশে নেমে আসে
- 📌 পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভভিত্তিক চিংড়ি চাষের ফলাফল সফল; আগামী ২০ বছরে ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে এই পদ্ধতি প্রসারিত করা সম্ভব
- 📌 ম্যানগ্রোভ চারা রোপণে চিংড়ির জন্য ছায়া ও প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, ফলে অর্গানিক চিংড়ির উৎপাদন বাড়বে
- 📌 চিংড়ির জোনিং ও নীতিকাঠামো তৈরি করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে
- 📌 এইচএসবিসি ব্যাংক ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক ম্যানগ্রোভ বনায়নে অর্থায়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করছে
📰 বিস্তারিত
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চিংড়ির উৎপাদনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ম্যানগ্রোভভিত্তিক চিংড়ি চাষের সম্ভাবনা নিয়ে গতকাল কারওয়ান বাজারে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থাপিত গবেষণা থেকে জানা যায়, ম্যানগ্রোভভিত্তিক চিংড়ি চাষে মৃত্যুহার কমে ৫০ শতাংশে নেমে আসতে পারে। খুলনার পাইকগাছায় করা পরীক্ষামূলক চাষে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, আগামী ২০ বছরে ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে এই পদ্ধতি প্রসারিত করা সম্ভব।
বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, চিংড়িঘেরে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করে চিংড়ির জন্য ছায়া ও প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, কীটনাশক ও সারের ব্যবহার কমে যাবে, ফলে অর্গানিক চিংড়ির উৎপাদন বাড়বে। তিনি বলেন, “চিংড়িঘেরে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করে চিংড়ির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। এতে উচ্চমূল্যের চিংড়ির রপ্তানি আয় বাড়বে।”
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান বলেন, “ম্যানগ্রোভভিত্তিক চিংড়ি চাষের মডেলটি মাঠপর্যায়ে চাষিদের আগ্রহী করতে হবে। এর জন্য দৃশ্যমান ফলাফল দেখাতে হবে।” তিনি ম্যানগ্রোভভিত্তিক পদ্ধতির সুবিধা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, “চিংড়ি একসময় রপ্তানি পণ্যের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। বর্তমানে চতুর্থ বা পঞ্চম অবস্থানে নেমে এসেছে। চিংড়িকে রপ্তানির তালিকায় এক নম্বরে নিয়ে উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।”
সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার কান্ট্রি ম্যানেজার সেলিম রেজা হাসান বলেন, “ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুড তৈরি করা এবং প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনা। দীর্ঘ মেয়াদে এই পদ্ধতির লাভ বেশি হবে।” তিনি মনে করেন, এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে সুন্দরবনের ওপর চাপ কমবে।
এইচএসবিসি ব্যাংকের বাংলাদেশের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা বলেন, “আমরা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনায়নে অর্থায়ন করি। ম্যানগ্রোভ অন্যান্য গাছের চেয়ে চার গুণ বেশি কার্বন শোষণ করে। আমরা প্রকৃতি সংরক্ষণ ও ম্যানগ্রোভ বনায়নে তহবিল দিচ্ছি।” তিনি বলেন, এইচএসবিসি সলিডারিডাডের সঙ্গে ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষে কাজ করছে।
"ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুড তৈরি করা এবং প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনা। দীর্ঘ মেয়াদে এই পদ্ধতির লাভ বেশি হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুল আজম, নাজমুল আহসান, মো. লতিফুল ইসলাম, সেলিম রেজা হাসান, সৈয়দা আফজালুন নেসা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ শতাংশ (মৃত্যুহার), ৫০ শতাংশ (ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৃত্যুহার), ১০০ হেক্টর (পরীক্ষামূলক জমি), ২৯ হাজার হেক্টর (আগামী ২০ বছরে সম্ভাব্য জমি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!