📌 মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ৬৫০ মিলিয়ন থেকে কমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। শিল্পোদ্যোক্তারা ডিজেল কিনে কারখানা চালানো অসম্ভব বলে জানিয়েছেন। সরকার জিটুজি চুক্তির বিকল্প হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনলেও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে
মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে নতুন ধাক্কা লেগেছে। বুধবার দুপুরে টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ হলে সরবরাহ ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে মাত্র ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে, যার ফলে এই বিপর্যয় দেশের শিল্প খাতকে মহাসংকটে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ৬৫০ মিলিয়ন থেকে কমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে
- 📌 দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ আসে এলএনজি থেকে
- 📌 শিল্পোদ্যোক্তারা ডিজেল কিনে কারখানা চালানো অসম্ভব বলে জানিয়েছেন
- 📌 সরকার জিটুজি চুক্তির বিকল্প হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনলেও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে
- 📌 সামিটের টার্মিনাল চালুর পরও এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি বুধবার দুপুরে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে নতুন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা গ্যাস সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সূত্রমতে, টার্মিনালটি বন্ধ হওয়ার ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এক ধাক্কায় ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে মাত্র ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে।
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) তথ্যমতে, মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের মোট পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও এলএনজির অভাবে মঙ্গলবার বিকালেও যেখানে দুটি টার্মিনাল মিলে মাত্র ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল, বুধবার দুপুরে এক্সিলারেট বন্ধ যাওয়ায় এখন কেবল সামিটের টার্মিনাল থেকে কোনোমতে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সোমবার যেখানে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ২৬২ মিলিয়ন ঘনফুট, তা বুধবার নামতে নামতে ১ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
শিল্পোদ্যোক্তারা পেট্রোবাংলার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ডিজেল কিনে কারখানা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ না হলে পুরোপুরি থমকে যাবে শিল্প উৎপাদন। ইতোমধ্যে সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়ির চুলার আঁচ নিমুখী হয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শিল্প খাতে, বিশেষ করে ডাইং ও ইস্পাত কারখানায়।
"গ্যাস সংকট সামাল দিতে সরকার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনলেও শিডিউল অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত এলএনজি দেশে পৌঁছাচ্ছে না।"
তথ্য বলছে, বছরজুড়ে নির্ধারিত এলএনজি পেতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ওমান ও কাতার সরকারের পৃথক সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং এলএনজি সরবরাহকারী দেশে হামলার কারণে চুক্তিভিত্তিক এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে সরকার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনলেও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও তা কবে নাগাদ মহেশখালীতে ভিড়বে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহেশখালী, কক্সবাজার
- 👥 ব্যক্তি: শিল্পোদ্যোক্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, ৩০-৩৭ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!