📌 লালমোহনের পোল্ট্রি খামারিরা মুরগির খাদ্য দাম বৃদ্ধি, রোগবালাই ও ঋণসহ বিভিন্ন সংকটে জর্জরিত। ১৫ হাজার মুরগি পালনকারী খামারি হাজী আব্দুল মালেকের মতো উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা চাইছেন
লালমোহনের সম্ভাবনাময় পোল্ট্রি শিল্পে খামারিরা নানা সংকটের মুখোমুখি হয়ে আছেন। প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি খাদ্য দাম বৃদ্ধি, রোগবালাই ও চিকিৎসা পরামর্শের অভাব তাদের ব্যবসাকে জর্জরিত করছে। উপজেলার বিভিন্ন খামারে উৎপাদিত ডিম ও মুরগির মাংস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে, কিন্তু খামারিরা সরকারি সহায়তা ও ঋণের অভাবের কারণে লোকসান হচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৫ হাজার মুরগি** পালনকারী রমাগঞ্জ ইউনিয়নের খামারি হাজী আব্দুল মালেকের খামারে **প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার ডিম** উৎপাদন হয়, কিন্তু খাদ্য দাম ও ওষুধের খরচে লোকসান হচ্ছে।
- 📌 **২০ একর জমিতে** গড়ে তোলা খামারে **১০ জন শ্রমিক** কর্মরত, কিন্তু সরকারি চিকিৎসা পরামর্শের অভাব তাদের ব্যবসাকে বিপন্ন করছে।
- 📌 **১৫ বছরে** কোনো প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খামারে সরেজমিনে পরামর্শ দেননি — খামারিরা সরকারি সহায়তা চাইছেন।
- 📌 **হাজার হাজার ডিম** উৎপাদনকারী খামারিরা **বেকারদের কর্মসংস্থান** সৃষ্টি করলেও, **ঋণ, চিকিৎসা ও কারিগরি সহায়তা** না পাওয়ায় শিল্পের প্রসার বাধাগ্রস্ত।
📰 বিস্তারিত
লালমোহন উপজেলার পোল্ট্রি খামারিরা প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও নানা সংকটের মুখোমুখি। খামারি হাজী আব্দুল মালেকের মতো উদ্যোক্তারা মুরগির খাদ্য দাম বৃদ্ধি, রোগবালাই ও ওষুধের অতিরিক্ত খরচের কারণে ব্যবসায়িক লোকসান হচ্ছে। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে কোনো প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খামারে এসে সরেজমিনে পরামর্শ দেননি। সরকারি সহায়তা ও ঋণ পেলে শিল্প আরও এগিয়ে যেতো।”
রমাগঞ্জ ইউনিয়নের খামারি হাজী আব্দুল মালেকের খামারে **১৫ হাজার লেয়ার মুরগি** রয়েছে। এসব মুরগি থেকে **প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার ডিম** উৎপাদিত হয়, যা স্থানীয় ও জাতীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়। তবে খাদ্য দাম বৃদ্ধি ও রোগবালাই থেকে মুরগিকে রক্ষা করতে নিয়মিত ওষুধ দিতে হয়, যা খামার পরিচালনার ব্যয় বাড়িয়ে তুলছে।
খামারি মো. খায়রুল হাসান কাঞ্চন, মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা, হাজী আবু তাহের, মো. ফরিদ উদ্দিন, মো. আহমদ উল্যাহ, মো. জাকির মাতাব্বর, মো. হুমায়ুন কবির ও মো. সেলিমসহ আরও অনেক খামারি একই অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেছেন, “প্রতিদিনই কোনো না কোনো খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে, কিন্তু রোগবালাই প্রতিরোধের জন্য প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে না।”
"গত ১৫ বছরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসকের কাছ থেকে খামার পরিচালনা বা মুরগির রোগবালাই বিষয়ে পরামর্শ পাইনি। তাদের কাউকেও খামারে এসে সরেজমিনে পরামর্শ দিতে দেখিনি।"
লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন অর রশিদ জানান, খামারিদের অভিযোগ সত্য। জনবল সংকটের কারণে খামারিদের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “জনবল সংকট কেটে গেলে প্রতিটি খামারির কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমোহন উপজেলা, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাজী আব্দুল মালেক, ডা. মো. হারুন অর রশিদ, মো. খায়রুল হাসান কাঞ্চন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ হাজার মুরগি, ৮-১০ হাজার ডিম, ২০ একর জমি, ১০ জন শ্রমিক, ১৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!