📌 কালীগঞ্জের গাজীপুরে একটি পোলট্রি খামারে মুরগির বিষ্ঠা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি দিয়ে প্রতি মাসে ২৭টি পরিবারকে জ্বালানি সরবরাহ করা হয় এবং খামারিদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা সমাধান হচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার (গাজীপুর) একটি পোলট্রি খামারে মুরগির বিষ্ঠা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি দিয়ে খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে এবং স্থানীয় পরিবারদের জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুরের কালীগঞ্জে মুরগির বিষ্ঠা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে ২৭টি পরিবারকে মাসিক জ্বালানি সরবরাহ করা হয়
- 📌 মুরগির খাবারের ৬০ শতাংশ বর্জ্য হিসেবে তৈরি হয়, যা বায়োগ্যাস প্লান্টে রূপান্তরিত হয়
- 📌 ২০ ঘনফুট বায়োগ্যাস উৎপাদন করে প্রতি পরিবার প্রতি মাসে ৭০০ টাকা দিতে হয়
- 📌 খামারের মালিক সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা এ কে এম সবুজ, যিনি খামারে সাত হাজার ডিম পাড়া মুরগী পালন করেন
- 📌 উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মাহমুদুল হাসান বলেছেন, বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বান্দাখোলা এলাকায় অবস্থিত ‘খান এগ্রো’ নামের পোলট্রি খামারে মুরগির বিষ্ঠা থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খামারের মালিক এ কে এম সবুজ সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিন বছর আগে তিনি এই খামার স্থাপন করেন। খামারে প্রায় সাত হাজার ডিম পাড়া মুরগী রয়েছে।
মুরগির খাবারের প্রায় ৬০ শতাংশ বর্জ্য হিসেবে তৈরি হয়। এই বিষ্ঠা পানির সাথে মিশে তরল আকার ধারণ করে। এই তরল বিষ্ঠা পাইপের মাধ্যমে ১২ ফুট গভীর একটি গম্বুজাকৃত সংরক্ষক ডোমে প্রবেশ করে। এই ডোমের ভিতরে অ্যানারোবিক ডাইজেশনের মাধ্যমে মিথেন ও অন্যান্য গ্যাস উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত ২০ ঘনফুট বায়োগ্যাস পাইপের মাধ্যমে পরিবারের রান্নার কাজে সরবরাহ করা হয়।
বায়োগ্যাস উৎপাদনের ফলে খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা সমাধান হচ্ছে এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মাহমুদুল হাসান বলেছেন, ‘বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে পরিবেশকে দূর্গন্ধমুক্ত ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন থেকে রক্ষা করা যায়। এছাড়াও, দেশের জ্বালানি সঙ্কট কিছুটা হলেও কমবে।’
উপকারভোগীরা জানান, এই উদ্যোগ শুধু নিজের খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমাধান নয়, বরং অন্য পোলট্রি খামারিদের জন্যও হতে পারে একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। খামারিরা বলেন, মুরগির বিষ্ঠা ব্যবস্থাপনা তাদের জন্য দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। বায়োগ্যাস উৎপাদন সফল হলে অন্যান্য খামারিরাও এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হতে পারেন।
"বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে পরিবেশকে দূর্গন্ধমুক্ত ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন থেকে রক্ষা করা যায়। এছাড়াও, দেশের জ্বালানি সঙ্কট কিছুটা হলেও কমবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কালীগঞ্জ উপজেলা, গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এ কে এম সবুজ (খামার মালিক), ডাক্তার মাহমুদুল হাসান (উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ শতাংশ (মুরগির বর্জ্য), ১২ ফুট (ডোমের গভীরতা), ২০ ঘনফুট (বায়োগ্যাস), ২৭টি পরিবার, ৭০০ টাকা (মাসিক খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!