📌 চার বছরের ব্যবধানে ভারত গম ও গমজাত পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ মজুত বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে উচ্চ মূল্যের কারণে বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা অর্জন কঠিন হতে পারে
ভারত সরকার চার বছরের বেশি সময় পর গম ও গমজাত পণ্য—যেমন আটা, ময়দা ও সুজি—র রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেছে। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গত ২৪ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। ফলে এখন থেকে ব্যবসায়ীরা কোনো কোটা ছাড়াই অবাধে গম ও গমজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারত সরকার গম ও গমজাত পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেছে
- 📌 ডুরুম গমসহ সব ধরনের গম ও গমজাত পণ্য এখন অবাধে রপ্তানি করা যাবে
- 📌 ভারত সরকারের অভ্যন্তরীণ গম মজুত ৫ কোটি ৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি
- 📌 আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে
- 📌 বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
ভারত সরকার গত চার বছরের বেশি সময় ধরে গম ও গমজাত পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছিল। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ গম সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় সরকার এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের সরকারি খাদ্য সংস্থা ‘ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া’ (এফসিআই)-র তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি গুদামে গমের মজুত ছিল ৫ কোটি ৫ লাখ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া ২০২৬-২৭ বিপণন মৌসুমে সরকারি গম সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টনে, যা পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়া ও ইউক্রেনের শস্য অবকাঠামোতে হামলার কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে গম সরবরাহে টান পড়েছে। ফলে গত জুলাইয়ের শুরু থেকে শিকাগো শস্য বাজারে গমের ফিউচার মূল্য ১৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে গমের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে এর চাহিদা বেড়েছে। তবে ভারত সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে এখন থেকে ব্যবসায়ীরা অবাধে গম ও গমজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন।
ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গমের উচ্চ মূল্যের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুবিধা অর্জন সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। একটি আন্তর্জাতিক পণ্য বাণিজ্য সংস্থার প্রধান জানান, বিশ্ববাজারের তুলনায় ভারতীয় গমের দাম এখনো কিছুটা বেশি। বর্তমানে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গমের দর প্রতি টনে প্রায় ২৭০ ডলার, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছানো পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ দাঁড়ায় ৩১০ থেকে ৩১৫ ডলার। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয় গম লাভজনকভাবে রপ্তানি করতে হলে গুজরাটের কান্দলা বন্দরে প্রতি ১০০ কেজির দাম ২ হাজার ৬০০ রুপির কাছাকাছি হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার জি-টু-জি চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। প্রতি টন মূল্য ধরা হয়েছে ৩২২ মার্কিন ডলার, যার ফলে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক সুবিধা পেতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
"ভারত সরকারের গম রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, তবে উচ্চ মূল্যের কারণে বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা অর্জন কঠিন হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত
- 👥 প্রধান ব্যক্তি: ব্যবসায়ীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ কোটি ৫ লাখ টন (গম মজুত), ৪৬ শতাংশ (বৃদ্ধির হার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!