📌 করোনাকালে প্রায় ১০ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হলেও নিজেদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা দিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'সরলা'। মানসুরা স্পৃহা ও আমিনুল্লাহ বাবুর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ব্র্যান্ড এখন রাজধানীর কালাচাঁদপুরে নিজস্ব আউটলেট চালু করেছে
রাজধানীর কালাচাঁদপুরে নিজেদের প্রথম আউটলেট চালু করেছে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘সরলা’। মানসুরা স্পৃহা ও তাঁর স্বামী আমিনুল্লাহ বাবুর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ব্র্যান্ডটি করোনাকালীন ক্ষতি কাটিয়ে এখন সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 করোনাকালে প্রায় ১০ লাখ টাকার হস্তশিল্প পণ্য অবিক্রীত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যায়
- 📌 মানসুরা স্পৃহা ও আমিনুল্লাহ বাবুর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘সরলা’ ব্র্যান্ড
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক রক ব্যান্ড ‘স্করপিয়নস’ সদস্যদের কাছে সরলার আঁকা সানগ্লাস পৌঁছেছে
- 📌 বর্তমানে প্রায় ২০ জন নিয়মিত কর্মী নিয়োজিত রয়েছে সরলার আউটলেটে
📰 বিস্তারিত
মানসুরা স্পৃহা নাট্যকলা বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অন্যদিকে তাঁর স্বামী আমিনুল্লাহ বাবু চারুকলা অনুষদ থেকে ভাস্কর্য বিভাগে পড়াশোনা করে গ্রাফিক ডিজাইনে যুক্ত হন। ২০১৬ সালে স্বামীর হাতে আঁকা একটি শাড়ি পরে পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পরিচিতজনদের নজর কাড়েন মানসুরা। সেই শাড়ির অর্ডার থেকেই অনলাইনে যাত্রা শুরু করে ‘সরলা’।
শাড়ির পাশাপাশি রিকশাচিত্র আঁকা সানগ্লাস ও কনভার্স জুতা তৈরির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিতি পায় ব্র্যান্ডটি। দেশীয় মোটিফকে ফ্যাশন অনুষঙ্গে রূপান্তরের এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক রক ব্যান্ড ‘স্করপিয়নস’ সদস্যদের কাছে সরলার আঁকা সানগ্লাস চিরকুটের মাধ্যমে পৌঁছে যায়।
তবে ২০২০ সালের করোনা মহামারিতে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। পয়লা বৈশাখের তিনটি বড় মেলার প্রস্তুতি হিসেবে তৈরি করা প্রায় লাখ দশেক টাকার হস্তশিল্প পণ্য অবিক্রীত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যায়। এই স্থবির সময়েও ব্যবসা গুটিয়ে না নিয়ে মানসুরা মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের দিকে মনোনিবেশ করেন। ঘরে পরার উপযোগী সুতি পায়জামা ও জামদানি মাস্ক তৈরির মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু হয় সরলার।
করোনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্র্যান্ডটি পোশাকের নকশায় বৈচিত্র্য আনে। ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট ও গুজরাটি সেলাইয়ের সমন্বয়ে নতুন ডিজাইনের পোশাক বাজারে আসে। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে আরামদায়ক ‘ফ্লেক্সি ব্লাউজ’ তৈরির মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডটির কাজের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়।
"করোনাকালে আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার দিকে মনোনিবেশ করে নতুন পণ্য তৈরির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর কালাচাঁদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মানসুরা স্পৃহা, আমিনুল্লাহ বাবু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় ১০ লাখ টাকা, প্রায় ২০ জন কর্মী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!