📌 পাহাড়ি অঞ্চলে জুমচাষে প্রতি কানি ১২-১৮ হাজার টাকা খরচ হয়, কিন্তু সফল হলে ৩১ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব। তবে প্রকৃতিক দুর্যোগ ও বাজারজাতকরণের চ্যালেঞ্জ কৃষকদের জন্য বড় ঝুঁকি। খাগড়াছড়ির কৃষক বনরঞ্জন ত্রিপুরা বলেছেন, সরকারি সহায়তা ছাড়া জুমচাষের সম্ভাবনা সীমিত
খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অঞ্চলে জুমচাষের স্বপ্ন প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে চলেছে। প্রতি কানি জুমে ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা বিনিয়োগের পরেও কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার পথে বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জুমের মাঠে একসঙ্গে ধান, ভুট্টা, মরিচ, মারফা, তিল, কুমড়া, আদা ও হলুদ চাষের মাধ্যমে পরিবারগুলো খাদ্য নিরাপত্তা ও আয় উভয়ই নিশ্চিত করতে চায়, কিন্তু প্রকৃতিক দুর্যোগ ও বাজারজাতকরণের সমস্যা তাদের কষ্টকে দ্বিগুণ করে তুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রতি কানি জুমে ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয় জঙ্গল কাটা, জমি পরিষ্কার ও বীজ বপনের জন্য
- 📌 সফল হলে এক কানি জুম থেকে ধান, ভুট্টা, মরিচ ও মারফা বিক্রি করে ৩১ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় সম্ভব
- 📌 জুমচাষে পরিবারগুলো নিজস্ব খাদ্য উৎপাদন করে খরচ কমায় এবং বাজারে বিক্রি করে আয় বৃদ্ধি পায়
- 📌 প্রকৃতিক দুর্যোগ যেমন অতিবৃষ্টি ফসলের ক্ষতি করে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়
- 📌 কৃষক বনরঞ্জন ত্রিপুরা বলেছেন, সরকারি সহায়তা ছাড়া জুমচাষের সম্ভাবনা সীমিত
📰 বিস্তারিত
খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অঞ্চলে জুমচাষ একটি প্রজন্মের ঐতিহ্য। জুমের মাঠে একই জমিতে একসঙ্গে ধান, ভুট্টা, মরিচ, মারফা, তিল, কুমড়া, আদা ও হলুদ চাষ করে কৃষক পরিবারগুলো তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। প্রতি কানি জুমে জঙ্গল কাটা, জমি পরিষ্কার ও পোড়ানো, বীজ বপন ও নিড়ানি বাবদ ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এই অর্থ জোগাড় করতে অনেক পরিবার তাদের গৃহপালিত পশু-পাখি বিক্রি করতে হয়।
সফল হলে এক কানি জুম থেকে ধান ৭ থেকে ১০ মণ, ভুট্টা ২ থেকে ৩ মণ, মরিচ ৬০ থেকে ৮০ কেজি এবং মারফা ১৫০ থেকে ২০০ কেজি পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী, এই ফসলের সম্ভাব্য মোট আয় ৩১ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা। তবে এই হিসাবে তিল, তুলা, মিষ্টি কুমড়া, আদা ও হলুদের মূল্য যোগ করা হয়নি। জুমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব এখানেই যে, পরিবারগুলো নিজস্ব খাদ্য উৎপাদন করে বাজার থেকে খাদ্য কেনার খরচ কমায় এবং বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে অন্যান্য খরচ মেটায়।
কৃষক বনরঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, ‘মুরগি ও শুকর বিক্রি করে জুম চাষের অর্থ জোগাড় করি। নিজ অর্থায়নেই সব করতে হয়। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা আরও ভালোভাবে জুম চাষ করতে পারতাম।’ তিনি এ বছর এক কানি জমিতে ধান, ভুট্টা, মারফা ও মরিচ চাষ করেছেন। তবে অতিবৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে আমরা জুম চাষ করি। ফসল বিক্রি করে পরিবারের খরচ মেটাই। এবার ধানের পাশাপাশি ভুট্টা ও কলা চাষ করেছি। তবে অতিবৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি।’
"মুরগি ও শুকর বিক্রি করে জুম চাষের অর্থ জোগাড় করি। নিজ অর্থায়নেই সব করতে হয়। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা আরও ভালোভাবে জুম চাষ করতে পারতাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি অঞ্চল (দীঘিনালা, পানছড়ি, মহালছড়ি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বনরঞ্জন ত্রিপুরা (জুমচাষি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২-১৮ হাজার টাকা (খরচ), ৩১-৭০ হাজার টাকা (আয়), ৭-১০ মণ ধান, ২-৩ মণ ভুট্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!