📌 মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০২ ডলারে পৌঁছেছে। ইরান-মার্কিন আলোচনার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি হ্রাস করতে শুরু করায় দাম বেড়েছে। হুতি হামলা ও লিবিয়ার তেলক্ষেত্রে বন্ধের কারণে সরবরাহে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন বৃদ্ধির ফলে কিছুটা নিরাপত্তা বাড়েছে
মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম টানা চার দিনের দরপতনের পর আবার বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সকালে ১০২ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পরে কিছুটা কমে ১০১ ডলার ৮০ সেন্টে নেমে আসে। ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও আজ বেড়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে বাজারে উদ্বেগ কমে গেছে। এরপরেও ইরান-মার্কিন সম্পর্কের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাময় পরিস্থিতি তেলের দামের উপর প্রভাব ফেলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পরে ১০১ ডলার ৮০ সেন্টে নেমে আসে
- 📌 জাতিসংঘের অধিবেশনে ইরান-মার্কিন আলোচনার সম্ভাবনা বাজারকে প্রভাবিত করছে
- 📌 হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে সরবরাহ উদ্বেগ কিছুটা কমেছে
- 📌 সৌদি আরামকো হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে
- 📌 লিবিয়ার শরারা তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমে দিনে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ব্যারেলে নেমেছে
- 📌 বাংলাদেশে প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের বাজারমূল্য প্রায় ৭৯ টাকা
📰 বিস্তারিত
বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই অস্থিরতা ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে বৈঠক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পেজেশকিয়ান এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেবেন। বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি হ্রাস করতে শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, ইরান-মার্কিন আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট দিকে না গেলে তেলের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বাহিনী। তারা রিয়াদ ও ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং লোহিত সাগরের উপকূল থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা জোরদার করেছে। চীন তেহরানের সহযোগিতা চেয়েছে হুতি হামলা নিয়ন্ত্রণে আনতে। সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি বৃদ্ধি করেছে। সাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, ফলে সরবরাহ উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
লিবিয়ায় শরারা তেলক্ষেত্র থেকে জাওইয়া বন্দরমুখী অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইনের ৭ নম্বর ভাল্ভ বন্ধ করে দিয়েছে এক সশস্ত্র গোষ্ঠী। এর ফলে শরারা তেলক্ষেত্রের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দেশটির ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন জানিয়েছে, দিনে প্রায় দুই লাখ ব্যারেল কমে গেছে। বর্তমানে সেখানে দিনে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে।
"বাজারের মূল পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে না, বরং বিনিয়োগকারীরা দরপতনের পর অবস্থান সমন্বয় করছেন"
— টিম ওয়াটারার, কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্ববাজার (ব্রেন্ট ক্রুড, ডব্লিউটিআই ক্রুড), হরমুজ প্রণালি, লিবিয়া (শরারা তেলক্ষেত্র), ইয়েমেন (হুতি হামলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, মাসুদ পেজেশকিয়ান, মোহসেন রেজাই, টিম ওয়াটারার, সৌদি আরামকো কর্মকর্তা, লিবিয়ার প্রকৌশলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০২ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুড), ১০১ ডলার ৮০ সেন্ট (ডব্লিউটিআই ক্রুড), ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল (সৌদি আরামকো), ৭ নম্বর ভাল্ভ (লিবিয়া), ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ব্যারেল (লিবিয়া), ১৫৯ লিটার (১ ব্যারেল), ৭৯ টাকা (১ লিটার তেল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!