📌 দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ও আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে জানিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া
দেশের শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে ঘরবাড়ির চুলা পর্যন্ত জ্বালানি সংকটের কবলে। কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের একটিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্যাসের ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবই এই সংকটের প্রধান কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাব জ্বালানিসংকটের প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেছেন ভূতত্ত্ববিদ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া
- 📌 মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে
- 📌 বাংলাদেশে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মোট মজুত প্রায় ২৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)
- 📌 দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে সফলতার হার প্রায় ৩:১, যা বৈশ্বিক গড় ৮:১ থেকে অনেক কম
- 📌 সম্ভাবনাময় ২৫০ থেকে ৩০০টি গ্যাসক্ষেত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে থেকে প্রায় ১৫ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
গ্যাসের অভাবে দেশের শিল্প কারখানাগুলো উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ভূতত্ত্ববিদ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবই এই সংকটের প্রধান কারণ।
তিনি আরও বলেন, ২০০০ সাল থেকে গ্যাস উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় যথাযথ পরিকল্পনা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারিনি। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি সমস্যার কারণে সরবরাহ আরও ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মোট মজুত প্রায় ২৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। দেশে গ্যাসের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে গ্যাস উৎপাদন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ভূতত্ত্ববিদ ভূঁইয়া জানান, দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে সফলতার হার প্রায় ৩:১, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৮:১।
"বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে এমন মন্তব্য বাস্তবসম্মত নয়। তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়টি অসংখ্য অনিশ্চয়তায় ভরা। তবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার।"
ভূতত্ত্ববিদ ভূঁইয়া জানান, দেশে সম্ভাবনাময় ২৫০ থেকে ৩০০টি গ্যাসক্ষেত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে থেকে প্রায় ১৫ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র ও এর আশপাশের এলাকায় আরও অনুসন্ধান চালিয়ে গ্যাসের মজুত বৃদ্ধি করা সম্ভব।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহেশখালী, কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া (ভূতত্ত্ববিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার কোটি টাকা (বিনিয়োগ সম্ভাবনা), ৫ লাখ কোটি টাকা (সম্ভাব্য আয়), ২৯ টিসিএফ (গ্যাস মজুত), ৩:১ (সফলতার হার), ২৫০-৩০০ (সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র), ১৫ টিসিএফ (সম্ভাব্য উত্তোলন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!