📌 দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানা গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এলএনজি সরবরাহের টার্মিনাল দুর্ঘটনার পর থেকেই চলছে এই সংকট
দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানা গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্যোক্তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এলএনজি সরবরাহের টার্মিনাল দুর্ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে চলছে এই সংকট।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের অধিকাংশ গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে
- 📌 নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের শিল্প এলাকায় সংকট তীব্র
- 📌 উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ অনিশ্চিত
- 📌 এলএনজি সরবরাহের টার্মিনাল দুর্ঘটনার পর থেকেই চলছে সংকট
- 📌 গত তিন দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতি
📰 বিস্তারিত
নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের শিল্প এলাকায় গ্যাস সংকট আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে অধিকাংশ গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা উৎপাদনে ফিরতে পারছে না। একাধিক শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ ও ভোলা ব্যতীত দেশের অন্য এলাকার বেশির ভাগ শিল্পকারখানা কমবেশি গ্যাস সংকটে ভুগছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরার একটি টার্মিনাল দুর্ঘটনার কারণে প্রায় এক মাস ধরে দেশের শিল্পকারখানাগুলো তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে। গত শনিবার গ্যাস সরবরাহ সামান্য বাড়লেও সংকট পুরোপুরি কাটার আগেই আবার পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। তিন দিন ধরে সরবরাহ কমার পর গতকাল বুধবার বেলা তিনটায় কার্গো সংকটের কারণে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সিরামিক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিসিএমইএর সভাপতি মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘হবিগঞ্জ ও ভোলা ব্যতীত অন্য এলাকার কারখানা চলছে না। আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। চুপচাপ বসে অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। এভাবে চলতে থাকলে মালিকেরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবে না। তাতে সামাজিক অসন্তোষ তৈরি হবে।’
নরসিংদীর সদর ও মাধবদী এলাকার ১০টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কারখানাই বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকেরা গেটের ভেতর অলস সময় পার করছেন। তাসফিয়া ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শত শত শাড়ি ও কাপড় মেঝেতে পড়ে রয়েছে। কারখানার প্রিন্টিং মাস্টার আশুতোষ বৈষ্ণব জানান, ‘পাঁচ দিন আগে এক দিনের জন্য গ্যাস পেয়েছিলাম। সেদিন প্রসেসের জন্য কাপড়গুলো ভেজানো হয়। তারপর আবার গ্যাস চলে গেলে প্রসেস শেষ করা যায়নি। ফলে পাঁচ দিনেও কাপড়গুলো মেশিন থেকে নামানো সম্ভব হয়নি। কাপড়গুলো পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’
গাজীপুরের মাওনা এলাকায় আর্টিসান সিরামিকসের কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তাদের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার পিস তৈজসপত্র হলেও গতকাল উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৬ হাজার পিস। আর্টিসান সিরামিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মামুনূর রশীদ জানান, গত তিন দিন ধরে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। উচ্চ চাপে তৈজসপত্র পোড়ানো সম্ভব না হওয়ায় অনেক ক্রয়াদেশ স্থগিত হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানায়, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও গত শুক্রবার সরবরাহ নেমে আসে ১৭৩ কোটি ঘনফুটে। শনিবার তা সামান্য বেড়ে ২৪৪ কোটি ঘনফুটে পৌঁছালেও গতকাল আবার তা কমে ২১৮ কোটি ঘনফুট হয়।
‘হবিগঞ্জ ও ভোলা ব্যতীত অন্য এলাকার কারখানা চলছে না। আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। চুপচাপ বসে অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।’ — বিসিএমইএর সভাপতি মঈনুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মঈনুল ইসলাম, আশুতোষ বৈষ্ণব, এম মামুনূর রশীদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ (টি কারখানা), ৫ (লাখ টাকা ক্ষতি), ২৫ (শতাংশ উৎপাদন হ্রাস), ২২ (হাজার পিস উৎপাদন ক্ষমতা), ৬ (হাজার পিস উৎপাদন), ৩৮০ (কোটি ঘনফুট চাহিদা), ১৭৩ (কোটি ঘনফুট সরবরাহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!