📌 কুমিল্লায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় মহাসড়কের সিএনজি স্টেশনগুলোতে শত শত পণ্যবাহী যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। আঞ্চলিক গণপরিবহনও প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে
কুমিল্লার মহাসড়কসংলগ্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ডভ্যান, ট্রাক ও লরি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার পর্যন্ত এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় মহাসড়কের সিএনজি স্টেশনগুলোতে শত শত পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ লাইন
- 📌 ফেনী ও কুমিল্লার অধিকাংশ আঞ্চলিক গণপরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি
- 📌 গতকাল বুধবার দুপুরে গাজীপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া কাভার্ডভ্যান চালক জয়নাল আবেদীন গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন
- 📌 স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বুধবার দুপুর থেকে হঠাৎ করেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার তাজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত পণ্যবোঝাই গাড়ি গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো স্টেশনেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। তবে বুধবার দুপুর থেকে হঠাৎ করেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
গাজীপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া কাভার্ডভ্যান চালক জয়নাল আবেদীন জানান, তিনি বুধবার রাত ২টা থেকে গ্যাসের জন্য স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘আজও গ্যাস পাইনি। সময়মতো বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে।’
লরি চালক আবদুল খালেক জানান, তিনি রাতে চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে পণ্য নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় স্টেশনে ঢুকলেও গ্যাস পাননি। তিনি বলেন, ‘কখন গ্যাস পাব, তাও জানি না। সঠিক সময়ে মালামাল নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব কিনা তাও জানি না।’
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক গণপরিবহনেও। ফেনী ও কুমিল্লার অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই জেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী কর্মকর্তা, কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।
চৌদ্দগ্রাম বাজারে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষারত ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার নিকটাত্মীয় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি। তাঁকে দেখতে যাওয়া জরুরী। কিন্তু যাওয়ার মতো কোন গণপরিবহন পাচ্ছি না।’
চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্ট নামে কাভার্ডভ্যানের মালিক ওবায়েদ পাটোয়ারী জানান, গ্যাস সংকটের কারণে তাঁদের গাড়ির খরচ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘যে গাড়ি পণ্য নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে গাড়ি এখন তিনদিনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।’
ফেনী-কুমিল্লা সড়কে চলাচলকারী আঞ্চলিক পরিবহন যমুনা মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম জানান, হঠাৎ গ্যাস সংকটে অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘অন্তত গণপরিবহনগুলো সচল রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ যেন অব্যাহত রাখে।’
‘বুধবার রাত ২টা থেকে গ্যাসের জন্য পাম্পে দাঁড়িয়ে আছি, আজও গ্যাস পাইনি।’ — জয়নাল আবেদীন, কাভার্ডভ্যান চালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম, পদুয়ার বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জয়নাল আবেদীন, আবদুল খালেক, ওবায়েদ পাটোয়ারী, খোরশেদ আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা, ৩ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!