📌 বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাপে রয়েছে। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক খাতে স্বস্তি দেখা দিয়েছে
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক খাতের সূচকগুলোতে স্বস্তির ছোঁয়া দেখা দিয়েছে। প্রবাসী আয় ও পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্ট শেষে এই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি না থাকায় উৎপাদন ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি
- 📌 আগস্ট মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি
- 📌 আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, আগস্ট শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার
- 📌 উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি নেই, উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছে যথাক্রমে ২৮৬ ও ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির হার জুলাইয়ে ছিল ১৫ শতাংশ, যা আগস্টে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ শতাংশে। যদিও গত জুন থেকে প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। এদিকে আগস্ট মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। তবে গত জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি কমেছিল দশমিক ৯০ শতাংশ।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রবাসী আয় ও পণ্য রপ্তানির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। গত ২৭ আগস্ট শেষে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। গত বছরের একই সময়ে রিজার্ভ ছিল ২৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।
তবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে চাপের মুখে রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি না থাকায় উৎপাদন ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে স্পিনিং, ডাইং ও সিরামিকের মতো গ্যাসনির্ভর শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। একাধিক শিল্পমালিক জানান, গত মাসে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ডিজেল চালিত কারখানার উৎপাদন। ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত ডিজেলে কারখানা চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখতে হয়েছে। এতে সময়মতো রপ্তানি হলেও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে অনেক কারখানামালিককে।
"প্রবাসী আয়, পণ্য রপ্তানি ও রিজার্ভ—এই তিন বৈদেশিক খাতে স্বস্তি থাকলেও আনন্দ নেই। তার কারণ ব্যবসার খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সেই তুলনায় ব্যবসা বাড়েনি। সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে বিভিন্ন প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। তবে মূল্যস্ফীতি কমাতে না কমলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাঁরা, মানুষের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯৭ কোটি ডলার, ৪৪৩ কোটি ডলার, ৩২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!