📌 চাকরির পাশাপাশি শুরু করা ফ্যাশন উদ্যোগ আর্টেমিস এখন প্রতিষ্ঠিত। অনলাইনে একটি শাড়ির ছবি থেকে এক দিনেই পাওয়া ১৫টি অর্ডার তাঁকে দিয়েছে নতুন প্রেরণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ফায়জা আহমেদ রাফা শুরু করেছিলেন নিজের ফ্যাশন উদ্যোগ আর্টেমিস। কয়েক বছর ধরে চাকরির পাশাপাশি পরিচালনা করলেও একবার অনলাইনে একটি নতুন নকশার শাড়ির ছবি প্রকাশ করার পরই তিনি পান ১৫টি অর্ডার। সেই ঘটনার পর থেকেই পুরোপুরি নিজের প্রতিষ্ঠানে মনোনিবেশ করেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফায়জা আহমেদ রাফা শুরু করেছিলেন নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টেমিস
- 📌 অনলাইনে একটি শাড়ির ছবি প্রকাশের পর এক দিনেই পাওয়া যায় ১৫টি অর্ডার
- 📌 ২০১৯ সালে ইসলামপুর ও মিরপুর থেকে কাপড় কিনে শুরু হয়েছিল উদ্যোগটির
- 📌 চাকরির বেতন থেকে জমানো ১৫ হাজার টাকা ছিল প্রাথমিক বিনিয়োগ
- 📌 ২০২২ সালে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সময় দিতে শুরু করেন ফায়জা
📰 বিস্তারিত
ফায়জা আহমেদ রাফা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি নকশা ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সময়ে একটি আর্ট স্কুলেও শিক্ষকতা করতেন তিনি। বিভিন্ন আয়োজনে নিজের তৈরি শাড়ি ও গয়না নিয়ে স্টল দিতেন ফায়জা। এর মধ্যেই ২০১৬ সালে একটি গেম নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চরিত্র-নকশাকার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি।
কাজের সঙ্গে সৃজনশীলতার সম্পর্ক থাকায় চাকরিটা তাঁর ভালো লাগত। তবে নিজের মতো করে কিছু করার ইচ্ছা সব সময়ই ছিল তাঁর। সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে ইসলামপুর ও মিরপুর থেকে কাপড় কিনে শুরু করেন নিজের প্রতিষ্ঠান আর্টেমিস। চাকরির বেতন থেকে জমানো ১৫ হাজার টাকা ছিল তাঁর প্রাথমিক বিনিয়োগ। একই সময়ে চালু করেন আর্টেমিসের ফেসবুক পেজ।
শুরুতে ব্লাউজ ও কুর্তা নিয়ে কাজ করলেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে ফায়জাকে। ব্লকের কাজ করাতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যেতে হতো তাঁকে। অল্প পরিমাণে কাজ করানোর কারণে অনেক সময় অপেক্ষাও করতে হয়েছে। কখনো কখনো একটি শাড়ি হাতে পেতে সাত দিন পর্যন্ত লেগে যেত।
এই সমস্যার সমাধানে ২০২১ সালে বাসার গ্যারেজেই ছোট একটি ব্লকপ্রিন্ট ইউনিট করেন ফায়জা। সেখানে সপ্তাহে দুই দিন এসে কাজ করতেন একজন কারিগর। অফিসের কাজ শেষ করে নিজের প্রতিষ্ঠানে সময় দিতেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আর্টেমিসের শুরুর দিকে কাতানের নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি শাড়ি তৈরি করেছিলাম। সেই শাড়ির ছবি অনলাইনে প্রকাশ করার পর এক দিনেই ১৫টি অর্ডার পাই।’
২০২২ সালে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি নিজের প্রতিষ্ঠানে সময় দিতে শুরু করেন ফায়জা। বর্তমানে সুতি, মসলিন, সিল্ক ও অরগাঞ্জার পোশাক নিয়ে কাজ করছে আর্টেমিস। পোশাকে ব্লক, ডিজিটাল প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারির কাজ করেন তিনি। কাপড় সংগ্রহ করেন টাঙ্গাইল, ইসলামপুর ও সিরাজগঞ্জ থেকে।
দীর্ঘদিন অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার পর ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি স্থায়ী জায়গার প্রয়োজন অনুভব করেন ফায়জা। সেই ভাবনা থেকেই ২০২৫ সালে কাজীপাড়ায় চালু করেন আর্টেমিস স্টুডিও। স্টুডিওতেই রয়েছে ব্লকের একটি ছোট কারখানা।
‘আর্টেমিসের শুরুর দিকে কাতানের নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি শাড়ি তৈরি করেছিলাম। সেই শাড়ির ছবি অনলাইনে প্রকাশ করার পর এক দিনেই ১৫টি অর্ডার পাই। তখন আমার কাছে শাড়িটির শুধু একটি নমুনা ছিল।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফায়জা আহমেদ রাফা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫টি অর্ডার, ১৫ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!