📌 ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামাল ও বিদ্যুৎ ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে ওষুধের দাম সমন্বয় না হওয়ায় দেশীয় ওষুধ শিল্প মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, নিয়মিত দাম পর্যালোচনা না হলে শিল্পটির বিকাশ ব্যাহত হবে
বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো ডলারের দাম, কাঁচামালের ব্যয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (বিএপিআই) জানিয়েছে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ওষুধের দাম সমন্বয় না হওয়ায় শিল্পটির বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএপিআই কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা তুলে ধরেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশে উৎপাদিত ওষুধের স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ হলেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে দাম সমন্বয় না হওয়ায় শিল্পটি চাপের মুখে
- 📌 বিএপিআই মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন জানান, ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ ও নিয়মিত হালনাগাদ ব্যবস্থা প্রয়োজন
- 📌 এম মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, রোগের বোঝা বৃদ্ধির সঙ্গে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া উচিত
- 📌 মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান জানান, টিকা উৎপাদনে ডব্লিউএইচওর ম্যাচুরিটি লেভেল-৩ অর্জনের জন্য কাজ চলছে
- 📌 বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান বিএপিআই নেতারা
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, দেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ওষুধ দেশীয় চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ পূরণ করে। এছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। তবে ডলারের বিনিময়মূল্য বৃদ্ধি, কাঁচামাল আমদানির ব্যয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের বাড়তি খরচের সঙ্গে ওষুধের দাম সমন্বয় না হওয়ায় শিল্পটি চাপের মধ্যে পড়ছে।
বিএপিআই মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ওষুধের দাম নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যা নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় পরিবর্তিত হলেও দাম সমন্বয়ের জন্য উদ্যোক্তাদের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে বারবার আবেদন করতে হয়—এটি দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর ব্যবস্থা নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দাম বাড়লে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের দাম কমানোও হয়। ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও নিয়মিত হালনাগাদ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।’
সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান এম মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘রোগের বোঝা (ডিজিজ বার্ডেন) বাড়ার সঙ্গে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাও নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া প্রয়োজন। দেশে ওষুধের প্রাপ্যতা আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধের মান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও জানান, ব্যাংকঋণ নিয়ে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউএসএফডিএসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বিভিন্ন শর্ত মেনে ওষুধ উৎপাদন করতে হয়। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সে অনুযায়ী দাম নির্ধারণের সুযোগ না থাকলে বিনিয়োগকারীদের জন্য এই খাত আকর্ষণীয় থাকবে না।’
বিএপিআই মহাসচিব ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, ‘টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডব্লিউএইচওর ম্যাচুরিটি লেভেল-৩ (এমএল-৩) অর্জনের জন্য দেশে কাজ চলছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের টিকা রপ্তানির সুযোগ বাড়বে।’ তিনি আরও জানান, ‘ওষুধ উৎপাদনে গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) থেকে কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসসহ (সিজিএমপি) বিভিন্ন মানদণ্ড মেনে চলতে হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে এসব মানদণ্ড ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসছে। সেগুলো অনুসরণ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ও বাড়ছে।’
‘ওষুধশিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের একটি বড় পার্থক্য হলো—উৎপাদন প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। এতে প্রস্তুত করা ওষুধের একটি ব্যাচ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে ব্যয় বাড়ছে।’
বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কারখানায় জেনারেটর ও ইউপিএস চালাতে হয় জানিয়ে মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, ‘ওষুধের দাম নির্ধারণে শুধু জ্বালানি ব্যয় নয়, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ব্যয় বিবেচনায় নিতে হয়। আগে যেখানে গুড স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস অনুযায়ী পাঁচটি পরীক্ষা লাগত, বর্তমানে সেখানে আটটি পরীক্ষা করতে হচ্ছে। নতুন নতুন ইমপিউরিটি বা অমেধ্য শনাক্তে উচ্চমূল্যের রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করতে গিয়ে মান নিয়ন্ত্রণের খরচ বেড়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মো. জাকির হোসেন, এম মোসাদ্দেক হোসেন, মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: স্থানীয় চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ উৎপাদিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!