📌 পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাদামতলী ফলের আড়তে দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজির মহামারি উন্মোচন করেছে প্রথম আলোর অনুসন্ধান। বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত পার্কিং ফি লঙ্ঘন করে ট্রাকচালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে এই চক্র চলছে।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকেন্দ্র বাদামতলী ফলের আড়ত রাজধানীর সদরঘাট থেকে বাবুবাজার সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় শত বছরের পুরোনো এই আড়ত থেকে সারা দেশে ফল সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বেচাকেনা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত পার্কিং ফি অনুযায়ী একটি ট্রাকের জন্য খরচ হওয়ার কথা মাত্র ১০০ টাকা। কিন্তু বেনাপোল থেকে আসা দূরদূরান্তের ট্রাকচালকদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত পার্কিং ফি প্রতি ট্রাকের জন্য ১০০ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ
- 📌 দূরদূরান্তের ট্রাকচালকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ
- 📌 পার্কিং ইয়ার্ডে প্রকাশ্যে চলছে রসিদবিহীন চাঁদাবাজি
- 📌 মাসে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে চাঁদাবাজির পরিমাণ
- 📌 চাঁদাবাজির টাকা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারাও
📰 বিস্তারিত
বাদামতলী ফলের আড়ত শুধু পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকেন্দ্র নয়; এটি সারা দেশের ফল সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রায় শত বছরের পুরোনো এই বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ফলের ব্যবসা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে এখানে চাঁদাবাজির মহামারি চলছে। বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত পার্কিং ফি অনুযায়ী একটি ট্রাকের জন্য খরচ হওয়ার কথা মাত্র ১০০ টাকা। কিন্তু বেনাপোল থেকে আসা দূরদূরান্তের ট্রাকচালকদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। পার্কিং ইয়ার্ডে প্রকাশ্যে চলছে রসিদবিহীন চাঁদাবাজি।
দৈনিক দেড় শতাধিক ফলের ট্রাক থেকে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। এই চাঁদাবাজির পরিমাণ মাসে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এমনকি ইয়ার্ডে থাকা ছোট চা ও খাবারের দোকানগুলোও প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা দেওয়া থেকে রেহাই পাচ্ছে না। না দিলে জুটছে মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি। এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে কাজ করছে রাজনৈতিক প্রভাব পরিবর্তন ও আইনি জটিলতার সুযোগ।
আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইজারা এখন স্থানীয় শ্রমিক দল ও যুবদলের কিছু নেতা–কর্মীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ আইনি মামলার অজুহাত দেখিয়ে প্রতি মাসে ইজারার মেয়াদ বাড়িয়ে দায় সারছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চাঁদার টাকার ভাগ বিআইডব্লিউটিএর অসাধু কর্মকর্তাদের কাছেও যায়।
"চাঁদাবাজির এই টাকা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত না করে উপায় নেই। তার মানে, এ চাঁদাবাজির ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারাও।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সদরঘাট থেকে বাবুবাজার সেতু পর্যন্ত, পুরান ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত পার্কিং ফি ১০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!