📌 বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৬টি বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামছুজ্জামান সুরুজ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে দেশের সব সরকারি চিনিকল পুনরায় চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মতিঝিলে বিএসএফআইসি কার্যালয়ে বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের ১৫টি সরকারি চিনিকলের মধ্যে ৬টির মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে
- 📌 পর্যায়ক্রমে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা
- 📌 নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ
- 📌 চিনিকলগুলো স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
- 📌 রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ব্যয় কমানোর জন্য নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হয়েছে
- 📌 গত অর্থবছরে বিএসএফআইসি সরকারকে ২১৩ কোটি টাকা আবগারি শুল্ক দিয়েছে
- 📌 প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে
- 📌 আখচাষিদের প্রণোদনা ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা করা হয়েছে
- 📌 বিএসএফআইসির কারখানাগুলো বছরে প্রায় ৬৬ হাজার ৪৫ টন কার্বন শোষণ করে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে দেশের সব সরকারি চিনিকল পুনরায় চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ১৫টি সরকারি চিনিকলের মধ্যে ৬টির মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে এসব কারখানার আওতাধীন এলাকায় আখ চাষ অব্যাহত আছে। পর্যায়ক্রমে এসব মিলকে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিএসএফআইসি কাজ করছে। কারণ বন্ধ কারখানাগুলো চালু হলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং সেই সাথে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। এ ক্ষেত্রে চিনি কলগুলোর সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চিনিকল শুধু চিনি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং লাখো আখচাষির জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং স্থানীয় সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
এছাড়া চিনিকলগুলো জ্বালানি সাশ্রয়েও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা করলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জ্বালানি ব্যয় হতো। কিন্তু নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এ ব্যয় কমানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে আখের ছোবড়া বা ব্যাগাস ব্যবহার করে ‘কো-জেনারেশন’ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান সরকারি চিনি কলের লোকসানের কারণ সম্পর্কে বলেন, ঋণের সুদ ও ‘ট্রেড গ্যাপ’ লোকসানের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ঋণের সুদ ও শুল্ক বাদ দিলে বিএসএফআইসির প্রকৃত লোকসান তেমন নেই। গত অর্থবছরেই কর্পোরেশন সরকারকে প্রায় ২১৩ কোটি টাকা আবগারি শুল্ক, কর ও ভ্যাট দিয়েছে।
আখচাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম ও প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাষিদের প্রণোদনার পরিমাণ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি চিনিকলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এজন্য এ চিনি শিল্পকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
"আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর চিনি শিল্প গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ খাতকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত করে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মতিঝিল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডভোকেট মো. শামছুজ্জামান সুরুজ, চেয়ারম্যান, বিএসএফআইসি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫টি চিনিকল, ৬টি স্থগিত, ৩৫ লাখ টাকা জ্বালানি ব্যয়, ২১৩ কোটি টাকা আবগারি শুল্ক, ৬২৫ টাকা আখের দাম, ১১ কোটি টাকা প্রণোদনা, ৬৬ হাজার ৪৫ টন কার্বন শোষণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!