📌 বিসিকের আয়োজিত ‘বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলা ২০২৬’-এ ৪৩টি স্টলে চামড়াজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছিল। হাজারীবাগের উদ্যোক্তা তাসনিম আলম শাহীন মেলায় প্রায় তিন লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন। মেলা চলেছে ১৬ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের সম্ভাবনাকে বাজারে উপস্থাপনের লক্ষ্যে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনের নিচতলায় ‘বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলা ২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। এই পাঁচ দিনব্যাপী মেলা ১৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকা মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা ব্যাগ, জুতা, স্যান্ডেল, বেল্ট, মানিব্যাগ, পার্স ও জ্যাকেটসহ নানা চামড়াজাত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬-২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলছে ‘বিসিক চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য মেলা ২০২৬’ — মোট ৪৯টি স্টলে ৪৩টি চামড়াজাত পণ্যের বিক্রি
- 📌 হাজারীবাগের উদ্যোক্তা তাসনিম আলম শাহীন মেলায় প্রায় ৩ লাখ টাকা পণ্য বিক্রি করেছেন — সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতার ধারা
- 📌 মেলায় মানিব্যাগের দাম ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা, বেল্ট ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, ব্যাগ ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত
- 📌 ৭০ শতাংশ পণ্য বিক্রি হলে স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন পণ্য আনতে হয় শাহীনকে
- 📌 বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেছেন, দেশীয় চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নের জন্য নিয়মিত আয়োজন প্রয়োজন
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত এই মেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা। মেলায় অংশ নেওয়া ৪৯টি স্টলের মধ্যে ৪৩টি ছিল চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের। উদ্যোক্তারা ব্যাগ, জুতা, স্যান্ডেল, বেল্ট, মানিব্যাগ, পার্স ও জ্যাকেটসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছিলেন।
মেলার চতুর্থ দিনেও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ক্রেতারা দৈনন্দিন ব্যবহারের মানিব্যাগ ও বেল্ট থেকে শুরু করে ব্যাগ, জুতা ও জ্যাকেট পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য কিনছিলেন। এই ক্রেতাদের আগ্রহ উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন আশাবাদ জাগিয়েছে। হাজারীবাগের উদ্যোক্তা তাসনিম আলম শাহীন প্রায় দুই দশক ধরে চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসায় যুক্ত। তিনি লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে সরাসরি ব্যবসায় যুক্ত হন। বর্তমানে তার শোরুম রয়েছে এবং ‘থ্রি টেক’ নামে লেদার গুডসের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
মেলায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে শাহীন বলেন, “প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সাড়া পেয়েছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা ক্রেতা আসছিল, যা অন্যান্য মেলায় খুব কম দেখা যায়। মেলায় আমার স্টলে প্রায় ৩ লাখ টাকা বেশি বিক্রি হয়েছে। মেলার শুরুতে মানিব্যাগ, বেল্ট ও ব্যাগের চাহিদা বেশি ছিল, কিন্তু পরে জ্যাকেট, স্যান্ডেল ও জুতার বিক্রিও বেড়েছে। একপর্যায়ে আমার স্টকের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, তাই নতুন করে পণ্য আনতে হয়েছিল।”
মেলায় পণ্যের দামও সাধ্যের মধ্যে রাখা হয়েছিল। শাহীনের স্টলে মানিব্যাগের দাম ছিল ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা, বেল্ট ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, ব্যাগ ২ থেকে ৫ হাজার টাকা, জুতা ২ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং নারীদের ব্যাগ ১ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেছেন, “দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। দেশীয় চামড়াকে কেবল কাঁচামাল হিসেবে দেখে না, এর মাধ্যমে মূল্য সংযোজন এবং তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
উদ্যোক্তারা বলছেন, চামড়াজাত পণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা থাকলেও দেশীয় পণ্যের ক্রেতা রয়েছে। প্রয়োজন নিয়মিত প্রচার, মানোন্নয়ন ও বাজারের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের আরও নিবিড় যোগাযোগ। বিসিকের মেলা শুধু কেনাবেচার আয়োজন নয়, দেশীয় চামড়াজাত পণ্যের সঙ্গে ক্রেতাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও একটি সুযোগ।
"প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সাড়া পেয়েছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা ক্রেতা আসছিল, যা অন্যান্য মেলায় খুব কম দেখা যায়।"
"দেশীয় চামড়াকে কেবল কাঁচামাল হিসেবে দেখে না, এর মাধ্যমে মূল্য সংযোজন এবং তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেজগাঁও, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাসনিম আলম শাহীন, বেনজীর আহমেদ (বিসিক চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৯টি স্টল, ৪৩টি চামড়াজাত পণ্য, ৩ লাখ টাকা (বিক্রি), ৭০ শতাংশ (পণ্য বিক্রি), ৪০০-১০০০ টাকা (মানিব্যাগের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!