📌 সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগানে ৩০ বছর ধরে চা-পাতা তুলছেন ঊষামণি। প্রতিদিন ২৩ কেজি পাতা তুলতে না পারলে মজুরি কমে যায়। চা-শ্রমিকদের জীবন কষ্টের মধ্যেও আনন্দের ছোটো ছোটো ঘটনায় ভরে থাকে
সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগানের গহিন পথে প্রতিদিন ভোরে বের হন ঊষামণি। ৩০ বছর ধরে এই চা-বাগানে শ্রমিকের কাজ করছেন তিনি। তাঁর শ্বশুরের বদলি হিসেবে এই কাজ শুরু করেছিলেন। ঋতু বদলায়, বয়স বাড়ে, কিন্তু প্রতিদিনের ভোরের পথে কোনো পরিবর্তন আসে না। দিনের শেষে ঘরে ফিরে সংসারের হিসাব মেলাতে মেলাতে আরেকটি নতুন ভোরের সাক্ষী হন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ কেজি পাতা তুলতে না পারলে ঊষামণির মজুরি কমে যায় ‘লেস হাজিরা’ হিসেবে গণনা করা হয়।
- 📌 সপ্তাহে ১৩১৫ টাকা মজুরি পান ঊষামণি, পাশাপাশি ৩ কেজি আটা পান।
- 📌 সাত বছর আগে স্বামী মারা গেলে চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে দিয়েছেন ঊষামণি।
- 📌 ১৩ বছর বয়স থেকে চা-পাতা তুলছেন সুমিত্রা ভূমিজ, বর্তমানে তাঁর ছেলেও চা-শ্রমিক।
- 📌 ২০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া সুনীল লোহার ঘর ঠিক করার জন্য, সপ্তাহে ৭০০ টাকা ঋণের কিস্তি দিতে হয়।
- 📌 চা-বাগানে যৌথ পরিবার এখনো প্রচলিত, কিন্তু চা-শ্রমিকদের কোনো মাটির অধিকার নেই।
📰 বিস্তারিত
সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগানে ৩০ বছর ধরে চা-পাতা তুলছেন ঊষামণি। তাঁর শ্বশুরের মৃত্যুর পর তাঁকে এই চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রতিদিন ভোরে বাগানের মেঠো পথে বের হয়ে ২৩ কেজি চা-পাতা তুলতে যান তিনি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তোলা ৩৩ কেজি পাতা ওজনকেন্দ্রে জমা দিয়ে বাড়ি ফিরেন। কিন্তু ২৩ কেজির কম পাতা তুললে ‘লেস হাজিরা’ হিসেবে গণনা করা হয় এবং মজুরি কমে যায়। প্রতিদিনের মজুরি ১৩১৫ টাকা পান ঊষামণি, পাশাপাশি ৩ কেজি আটা পান।
সাত বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেলে চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে দিয়েছেন। প্রতিদিন টিলায় টিলায় ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তোলার কাজ করেন। চা-শ্রমিকদের মধ্যে অন্য একজন সুমিত্রা ভূমিজ। তিনি ১৩ বছর বয়স থেকে চা-পাতা তুলছেন। বর্তমানে তাঁর ছেলেও চা-শ্রমিক। মা-ছেলের আয়েই চলে তাঁদের সংসার।
চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে অন্যতম সুনীল লোহার। তিনি চা-পাতা ওজন করার কাজ করেন। তাঁর পাঁচ সদস্যের পরিবার। একলা কাম করে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া ঘর ঠিক করার জন্য। সপ্তাহে মজুরি পান ১৩১৫ টাকা, এর মধ্যে ৭০০ টাকা ঋণের কিস্তি দিতে হয়। বাকি টাকায় সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়।
চা-বাগানের বাসিন্দাদের জীবন কষ্টের মধ্যেও আনন্দের ছোটো ছোটো ঘটনায় ভরে থাকে। পূজা, উৎসব, কারাম উৎসব, চড়কপূজা—এসব অনুষ্ঠানে শ্রমিকেরা নিজেদের মতো করে আনন্দ উপভোগ করেন। চা-বাগানে এখনো পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়। এখনো এখানে প্রায় সব কটিই যৌথ পরিবার।
"মোটেই তা নয়। এখানে দুঃখের উল্টো পিঠে আনন্দও আছে। পূজা, উৎসব, পার্বণ, চা-চয়ন উৎসব প্রায়ই লেগে থাকে।"
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির কার্যকরী পরিষদের সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে মাটিতে চা-শ্রমিকেরা বসবাস করছেন, এর ওপর তাঁদের কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে গত এক দশকে চা-জনগোষ্ঠীর অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় পেশা বদল করছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লাক্কাতুরা চা-বাগান, সিলেট শহরতলি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ঊষামণি, সুমিত্রা ভূমিজ, সুনীল লোহার, রাজু গোয়ালা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ কেজি (পাতা), ৩৩ কেজি (পাতা), ১৩১৫ টাকা (মজুরি), ৩ কেজি (আটা), ৫ টাকা (অতিরিক্ত প্রতি কেজি), ১৩ বছর (সুমিত্রার বয়স), ২০ হাজার টাকা (ঋণ), ৭০০ টাকা (সপ্তাহে ঋণের কিস্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!