📌 ঠাকুরগাঁওতে হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে যাওয়ার সময় সুফিয়া বেগমকে প্রতারকরা ফাঁদে ফেলে কানের সোনার দুটি দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। ৬০ বছর বয়সী সুফিয়া বেগমের নাতি-নাতনিকে চিকিৎসক দেখাতে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রতারকরা ‘এতিম শিশুদের টাকা দেওয়ার কথা বলে’ তাঁকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় এবং কানের সোনার দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জানতে পেরে তিনি ও তার ছেলের স্ত্রী রমিশা আক্তার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় গিয়ে আহাজারি করেন
ঠাকুরগাঁওতে একটি প্রতারক দল ৬০ বছর বয়সী সুফিয়া বেগমকে ফাঁদে ফেলে তাঁর কানের সোনার দুটি দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নাতি-নাতনিকে চিকিৎসক দেখাতে যাওয়ার সময় প্রতারকরা তাঁকে ‘এতিম শিশুদের টাকা দেওয়ার কথা বলে’ অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় এবং কানের সোনার দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটি ঘটে। সুফিয়া বেগমের নাতি-নাতনি যথাক্রমে ১০ ও ৩ বছর বয়সী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঠাকুরগাঁওতে প্রতারকরা সুফিয়া বেগমকে ফাঁদে ফেলে কানের সোনার দুটি দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়
- 📌 ৬০ বছর বয়সী সুফিয়া বেগমের স্বামী শরিফুল ইসলাম দিনমজুর — তাঁদের পরিবার খুবই গরিব
- 📌 প্রতারকরা ‘এতিম শিশুদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলে’ সুফিয়া বেগমকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়
- 📌 প্রতারকরা ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে অটোরিকশাচালককে বাইরে পাঠিয়ে সুফিয়া বেগমকে বলেন, ‘দুল খুলে টাকা নিতে হবে’
- 📌 সুফিয়া বেগমের ছেলের স্ত্রী রমিশা আক্তার সঙ্গে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর থানায় গিয়ে আহাজারি করেন
- 📌 ওসি শাহজাহান আলী ভুক্তভোগীকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেন
📰 বিস্তারিত
ঠাকুরগাঁও শহরের পুলিশ লাইনস এলাকার রাম বাবুর গোডাউন এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া বেগমের জীবন আজকেই একদিনে ভেঙ্গে পড়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ১০ ও ৩ বছর বয়সী নাতি-নাতনিকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে যান। টিকিট নিয়ে চিকিৎসক দেখানোর পর এক ব্যক্তি তাঁকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে শহরের মেরি স্টপ ক্লিনিক এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘এক চেয়ারম্যানের মা মারা গেছেন। গরিব-দুঃখীদের খাওয়াবেন, টাকা দেবেন। আপনার দুই নাতি কি এতিম?’ সুফিয়া বেগম নাতিদের এতিম বলে জানান। এরপর ওই ব্যক্তি বলেন, ‘দুই শিশুকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে’।
অটোরিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে ওই ব্যক্তি ২ হাজার ৫০০ টাকা দেন। বাইরে এসে অটোরিকশাচালক সুফিয়া বেগমকে বলেন, ‘চাচি, আমাকে আড়াই হাজার টাকা দিছে। আপনিও যান।’ এরপর আগে থেকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ব্যক্তি সুফিয়া বেগমকে বলেন, ‘ভেতরে গিয়ে টাকা নিতে হলে কানের সোনার দুটি দুল খুলে যেতে হবে’। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি টানাহেঁচড়া করে সুফিয়া বেগমের দুই কানের দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা চলে যায়। আমি কান্না করতে করতে বাসায় চলে আসি’।
বিষয়টি ছেলের স্ত্রী রমিশা আক্তারকে জানান সুফিয়া বেগম। রমিশা আক্তার বলেন, ‘আমার শাশুড়ির কিছুই নেই এই কানের দুলগুলো ছাড়া। উনি খুব সহজ-সরল মানুষ। হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কথা বলে তাঁকে নিয়ে গিয়ে দুলগুলো খুলে নিয়েছে। এখন আমরা কী করব, বুঝতে পারছি না’। রমিশা আক্তার আরও বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার শ্বশুর দিনমজুর। শাশুড়ির কাছে ওই দুল দুটিই ছিল। প্রতারকেরা কথা বলে তাঁকে ফাঁদে ফেলেছে। আমরা চাই, যারা এ কাজ করেছে, তাদের খুঁজে বের করে দুলগুলো উদ্ধার করা হোক’।
"আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা চলে যায়। আমি কান্না করতে করতে বাসায় চলে আসি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল, মেরি স্টপ ক্লিনিক এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুফিয়া বেগম (৬০), রমিশা আক্তার, ওসি শাহজাহান আলী, শরিফুল ইসলাম (দিনমজুর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর বয়স, ১০ ও ৩ বছর বয়সী নাতি-নাতনি, ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা, ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৯৬৬ বোতল ফেনসিডিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!