📌 টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করা সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় ফেসবুক পোস্ট করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। ভূঞাপুর প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসক সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করা দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুলকে অশালীন ভাষায় ফেসবুক পোস্ট করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট করেন সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল
- 📌 স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ তাঁর ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে সাংবাদিককে ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভণ্ড’, ‘ছোটলোক’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন
- 📌 ভূঞাপুর প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন
- 📌 কর্মকর্তা তাঁর পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা পড়াশোনা করে সাংবাদিক হওয়ার কথা, কিন্তু আফসোস! এসব বকলম লোকজন সাংবাদিক হয়’
- 📌 ভূঞাপুরের অর্থনীতিতে চরের মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করে কর্মকর্তা বলেন, ‘এই বেয়াদবগুলো কীভাবে চরের মানুষকে নিয়ে মন্তব্য করার সাহস পায়?’
📰 বিস্তারিত
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল। তাঁর অভিযোগ ছিল, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নজর না দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সভায় ব্যস্ত থাকেন। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও করেন তিনি।
এর প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা নামে একটা সাবজেক্ট আছে, যেখান থেকে পড়াশোনা করে সাংবাদিক হওয়ার কথা। কিন্তু আফসোস! এসব বকলম লোকজন সাংবাদিক হয় এ দেশে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘ওরা ঘোষণা দিয়ে গত ১০ মাস ধরে আমার পেছনে লেগে আছে। এদের দুঃসাহস চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’
পাশাপাশি কর্মকর্তা তাঁর পোস্টে বলেন, ‘আমরা চরের মানুষ নিজেদের মেধা, পরিশ্রম আর যোগ্যতা দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি। ভূঞাপুরের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের চরের মানুষের। এই বেয়াদব, ছোটলোকগুলো কীভাবে চরের মানুষকে নিয়ে মন্তব্য করার সাহস পায়, আমার জানা নেই।’ একই পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আরও কয়েকটি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন এবং তাঁর অনুসারীদের ওই সাংবাদিকের পোস্টে গিয়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।
"হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশালীন ভাষায় ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এটি সরকারি চাকরির আচরণবিধিরও লঙ্ঘন।"
ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা এবং প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো সাংবাদিকের বক্তব্য বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণসহ তার জবাব দেওয়া। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন সাংবাদিককে গালিগালাজ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসাদুল ইসলাম বাবুল (সাংবাদিক), ডা. লুৎফর রহমান আজাদ (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: গত ১০ মাস ধরে অভিযোগ চলছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!