📌 সিলেটের ওসমানীনগরে সন্তান জন্মের তিন দিন পর ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে মা হালিমা বেগম (৩০) প্রাণ হারান। নবজাতক আইসিইউতে ভর্তি। পাঁচজন আহত, তাদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সচালক ও পরিবারের সদস্যরা। প্রবাসী পিতা রাজু মিয়া দুঃখে ভেঙে পড়েছেন
সিলেটের ওসমানীনগরে সন্তান জন্মের মাত্র তিন দিন পর একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মা-সন্তান দুটি দুঃখের কাহিনীতে জড়িয়ে পড়েন। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় রাত ৮টার দিকে ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে হালিমা বেগম (৩০) প্রাণ হারান। নবজাতক সন্তান আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে। ঘটনায় পাঁচজন আহত হন, তাদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সচালক মুহিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সন্তান জন্মের ৩ দিন পর সিলেটের ওসমানীনগরে ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে মা হালিমা বেগম (৩০) প্রাণ হারান
- 📌 নবজাতক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি
- 📌 ৫ জন আহত, তাদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সচালক মুহিবুর রহমান, হালিমার মা রুবেনা বেগম, শাশুড়ি শাহেনা বেগম, শ্বশুর আনহার মিয়া ও ননদ ইমা বেগম
- 📌 প্রবাসী পিতা রাজু মিয়া সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় খবর শুনে জ্ঞান হারান, হাসপাতালে ভর্তি হন
- 📌 দুর্ঘটনায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাককে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ধাক্কা দেয়
📰 বিস্তারিত
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় গত রোববার রাত ৮টার দিকে ঘটে এই দুর্ঘটনা। হালিমা বেগম তাজপুর ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সৌদি আরবপ্রবাসী রাজু মিয়ার স্ত্রী। গত শুক্রবার সকালে এক বেসরকারি হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু রোববার নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পথে অ্যাম্বুলেন্সটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে হালিমা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হালিমার মামা আলাল মিয়া জানান, অ্যাম্বুলেন্সচালক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। নবজাতকের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে স্থানীয় ক্লিনিক থেকে তাকে সিলেটের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ঘটনায় মা প্রাণ হারান। আলাল মিয়া বলেন, রাজু মিয়া তাঁর বড় বোনের ছেলে। প্রায় এক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আরেক বোনের মেয়ে হালিমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের চার মাস পর রাজু আবার প্রবাসে চলে যান। গত শুক্রবার তাঁদের ঘরে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের খবর শুনে রাজু খুব খুশি হলেও, স্ত্রী-সন্তানের দুর্ঘটনা খবর শুনে তিনি ভেঙে পড়েছেন। সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় তিনি জ্ঞান হারান এবং হাসপাতালে ভর্তি হন।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী জানান, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাককে অ্যাম্বুলেন্সটি ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলে আলো কম ছিল। সোমবার দুপুরে হালিমার দাফন সম্পন্ন হয়। আহত অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরিবারের সবার একটাই আশা, নবজাতক শিশুটি যেন বেঁচে থাকে।
"অ্যাম্বুলেন্সচালক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। নবজাতকের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে স্থানীয় ক্লিনিক থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ঘটনায় মা প্রাণ হারান।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, ওসমানীনগর উপজেলা, তাজপুর ইউনিয়ন, কাশিকাপন এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হালিমা বেগম (৩০), রাজু মিয়া (সৌদি আরবপ্রবাসী), আলাল মিয়া, মুহিবুর রহমান (অ্যাম্বুলেন্সচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ দিন (সন্তান জন্মের পর), ৫ জন আহত, ৩০ বছর (হালিমার বয়স), ৮ টা (ঘটনার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!