📌 সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাদকাসক্ত ও জুয়া আসক্ত সরাফত আলী (৩৭) সৌদি আরবে স্ত্রী ফাতেমা বেগম যাওয়ার আশঙ্কায় রাতের বেলায় তিন সন্তানসহ বিষ খেয়ে মারা যান। তিন শিশু ও বাবা মারা যান, বাবা চিকিৎসাধীন। ঘটনাস্থলে ইয়াবা ও বিষের বোতল পাওয়া যায়
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার রজনীলাইন গ্রামে মাদক ও জুয়া আসক্ত সরাফত আলী (৩৭) স্ত্রী ফাতেমা বেগমের সৌদি আরবে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতের বেলায় তিন সন্তানসহ বিষ খেয়ে মারা যান। ঘটনাস্থলে মারা যায় তিন শিশু এবং বাবা সরাফত আলী। তিন শিশুর মৃতদেহ জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে, আর সরাফত আলী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁর অবস্থা গুরুতর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরাফত আলী (৩৭) ও তাঁর তিন সন্তান (১০, ৭ ও ২ বছর বয়সী) বিষ খেয়ে মারা যান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে
- 📌 মারা যাওয়া শিশুদের নাম: মাওয়া আক্তার (১০), তামিম মিয়া (৭), শামীম মিয়া (২)
- 📌 বিষপানের ঘটনা ঘটে রাত ১২টার দিকে, রাত ২টায় স্বজনকে ফোন করে বিষপানের কথা জানান সরাফত
- 📌 ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবনের সামগ্রী, বিষের বোতল ও লিচুর জুসের বোতল পাওয়া যায়
- 📌 সরাফতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, যা সরাফতের মনোমালিন্যের কারণ
- 📌 সরাফত মাদকাসক্ত ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন
📰 বিস্তারিত
সরাফত আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম গত শুক্রবার রাত ১২টায় সৌদি আরবের উদ্দেশে উড়োজাহাজে চড়েছিলেন। সেই সময় বাড়িতে অবুঝ তিন সন্তানকে নিয়ে লিচুর জুসের সঙ্গে বিষ পান করেন সরাফত। বিষক্রিয়ায় যন্ত্রণায় ভুগতে থাকা অবস্থায় রাত দুইটার দিকে তিনি এক স্বজনকে ফোন করেন এবং বিষপানের কথা জানান। সরাফতের স্বজনদের মতে, স্ত্রীর বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি মনোমালিন্য ভোগ করছিলেন।
সরাফতের বড় ভাই মারফত আলী জানান, শুক্রবার রাত দুইটার দিকে তারা বিষপানের কথা শুনেন। কিন্তু দুর্গম এলাকার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর সময় তিন শিশুর মৃত্যু হয়ে যায়। মারফত আরও বলেন, সরাফতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম তিন বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন। এরপর আরেক সন্তান হয়। কিন্তু স্ত্রীর আবার সৌদি যাওয়ার বিষয়ে তিনি বেঁকে পড়েন। শুক্রবার রাত ১২টার ফ্লাইটে ফাতেমা সৌদি আরবে যান। এর আগে তিন দিন আগে ঢাকায় যান সরাফত।
সরাফতের চাচি ফরিদা বেগম জানান, শুক্রবার তিন সন্তানকে নিয়ে বাজারে যান সরাফত। মিষ্টি খাওয়ান তাদের। বাজার থেকে একটি মোরগ কিনে আনেন। রাতে নিজে রান্না করে সন্তানদের খাওয়ান। রাত দুইটার দিকে সরাফত ফোন করে তাঁর এক ফুফুকে বলেন, ‘আমরা চারজন বিষ খাইছি। আমরা শেষ।’ ওই নারী পরে বিষয়টি জানালে তাঁরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকেন। শনিবার দুপুরে পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে সরাফতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের সামগ্রী, বিষের বোতল ও লিচুর জুসের বোতলসহ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা ওই গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু আলামত সংগ্রহ করেছি। অনেকেই অনেক কথা বলছেন। পুলিশ সব বিষয় খতিয়ে দেখছে।’
"আমরা চারজন বিষ খাইছি। আমরা শেষ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রজনীলাইন গ্রাম, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন, তাহিরপুর উপজেলা, সুনামগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সরাফত আলী (৩৭), ফাতেমা বেগম, মারফত আলী, ফরিদা বেগম, ফারুক আহমেদ (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ বছর (সরাফত), ১০, ৭, ২ বছর (সন্তানদের বয়স), ১২:০০ (ফ্লাইট সময়), ২:০০ (বিষপানের কথা জানানো সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!