📌 কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ৩২ বছর ধরে অচল থাকা সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছে। পর্যটন মৌসুমে চাহিদা মেটাতে জেনারেটর চালানোর খরচের কারণে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে
কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ৩২ বছর ধরে অচল থাকা সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছে। পর্যটন মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার কারণে জেনারেটর চালানোর খরচের কারণে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেড। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৯৪ সাল থেকে অচল থাকা সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জায়গায় ২০১৯ সালে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা ৯১৫টি সৌর প্যানেল নিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে।
- 📌 বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৪০টি হোটেল, ২০টি রেস্তোরাঁ, ৬০০টি বাসাবাড়ি, ১৫৭টি দোকানপাট, ছয়টি সেচপাম্প ও ১৫টি ইজিবাইক চার্জিং পয়েন্টের মতো এক হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
- 📌 পর্যটন মৌসুমে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোওয়াটে পৌঁছায়, কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, ফলে জেনারেটর চালানোর খরচের কারণে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে।
- 📌 ১ নভেম্বর থেকে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৬২ টাকা হবে, যা বর্তমান ৪২ টাকা ও ৫২ টাকার তুলনায় ১০ টাকা বেশি।
- 📌 ২১ অক্টোবর বিকেলে দ্বীপের ইউরো বাংলা রিসোর্টের সামনে দেড় শতাধিক গ্রাহক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নুরুল আলম ও টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ ইকবালসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ১৯৮০-এর দশকে স্থাপিত সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৯৯৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং টানা ৩২ বছর ধরে অচল রয়েছে। এই সময়ে দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব নেয় বেসরকারি উদ্যোগ। ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেডের উদ্যোগে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়। এই প্রকল্পে ৯১৫টি সৌর প্যানেল ব্যবহার করে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে।
প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় এক হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৪০টি হোটেল, ২০টি রেস্তোরাঁ, ৬০০টি বাসাবাড়ি, ১৫৭টি দোকানপাট, ছয়টি সেচপাম্প ও ১৫টি ইজিবাইক চার্জিং পয়েন্ট। তবে পর্যটন মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। দৈনিক চাহিদা ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোওয়াটে পৌঁছায়, কিন্তু সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বাকি চাহিদা মেটাতে জেনারেটর চালানোর খরচের কারণে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
১ নভেম্বর থেকে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৬২ টাকা হবে। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৫২ টাকা। এই দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ২১ অক্টোবর বিকেলে ইউরো বাংলা রিসোর্টের সামনে দেড় শতাধিক গ্রাহক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নুরুল আলম বলেছেন, "এমনিতেই বিদ্যুতের দাম বেশি, তার ওপর নতুন করে দাম বাড়ানোর ঘোষণায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।"
"বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের টাকা থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ কেটে নেওয়া এবং মিটার চার্জ আদায় নিয়েও গ্রাহকদের অসন্তোষ রয়েছে।" — হোটেলমালিক আবদুর রহিম ও রহিম উল্লাহ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. নুরুল আলম (সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি), জাবেদ ইকবাল (টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদল সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক), জাফর আহমদ পাটোয়ারী (ব্লু মেরিন এনার্জি ও রিসোর্টের মালিক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ বছর (অচল সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র), ২৫০ কিলোওয়াট (সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষমতা), ৯১৫টি সৌর প্যানেল, ২০ কোটি টাকা (প্রকল্প ব্যয়), ১৪০টি হোটেল, ৬০০টি বাসাবাড়ি, ১৫৭টি দোকানপাট, ১০ টাকা (দাম বাড়ানো)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!