📌 সিরাজগঞ্জের তৃতীয় লিঙ্গের স্বপ্না (২৩) রেলওয়ে জায়গায় বসবাস করে ছাগল খামার দিয়ে নিজের জীবিকা নিশ্চিত করছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে ১৮টি ছাগল রয়েছে এবং প্রতিদিন ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি
সিরাজগঞ্জের তৃতীয় লিঙ্গের স্বপ্না (২৩) নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যায়ে ছাগল খামার গড়ে তুলেছেন। সমাজের অবহেলা ও আর্থিক অনটনের মধ্যেও তিনি বর্তমানে ১৮টি ছাগল নিয়ে স্বাবলম্বী জীবন যাপন করছেন। মোহনপুর মিলপাড়া এলাকায় বসবাসকারী স্বপ্না রেলওয়ে জায়গায় বসবাস করলেও তার কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ তিনি নিজের খামার দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বপ্না (২৩) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর মিলপাড়া এলাকায় বসবাসকারী তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি, যিনি ছাগল খামার দিয়ে নিজের জীবিকা নিশ্চিত করছেন।
- 📌 বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ১৮টি ছাগল — তোতা, হরিয়ানা, বিটল, যমুনাপাড়ি ও ব্ল্যাক বেঙ্গলসহ বিভিন্ন জাতের। প্রতিটি ছাগলের বাজারমূল্য ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
- 📌 প্রতিদিন ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয় পাঠা প্রজননের মাধ্যমে। গত বছর ১০টি ছাগল বিক্রি করে মোট ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা আয় করেছেন স্বপ্না।
- 📌 স্বপ্না জানান, মাত্র দুটি ছাগল দিয়ে শুরু করা খামারটি বর্তমানে ১৮টি ছাগলের সাথে সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ৬টি ছাগল মারা গিয়েছিল।
- 📌 স্বপ্না বলেন, ‘আমি চাই না, জীবিকার জন্য আর কারও কাছে হাত পাততে হোক। এই খামার দিয়েই আমার সংসার চলে। অনেক কষ্ট করে খামারটি দাঁড় করিয়েছি। মাঝেমধ্যে ছাগল মারা যাওয়ায় লোকসানও হয়েছে। তারপরও হাল ছাড়িনি। আমার স্বপ্ন, খামারটিকে আরও বড় করা।’
📰 বিস্তারিত
স্বপ্না (২৩) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর মিলপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা নুরজাহান বেগম। তাঁদের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই, বরং রেলওয়ের জায়গায় বসবাস করছেন। আর্থিক অনটন ও সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্না নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যায়ে ছাগল খামার গড়ে তুলেছেন।
স্বপ্না জানান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় জীবিকার তাগিদে একসময় তাঁকে অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে হতো। এ সময় নানা ধরনের কটূক্তি ও নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, অন্যের কাছে হাত না পেতে নিজেই কিছু করবেন। সেই চিন্তা থেকেই ছাগল পালনের উদ্যোগ নেন তিনি। প্রথমে বাবা-মায়ের কাছ থেকে দুটি ছাগল নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করেন স্বপ্না। তাঁর মা নুরজাহান বেগম জানান, সংসার চালাতেও নানা কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। পাশের বাড়ির একজনকে ছাগল পালন করতে দেখে স্বপ্নারও ছাগল কেনার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তাঁর বাবা ১৩ হাজার ও ১৪ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে দেন। সেই দুটি ছাগল দিয়েই শুরু হয় স্বপ্নার খামার।
শুরুতে অল্প কয়েকটি ছাগল নিয়ে পালন শুরু করলেও ধীরে ধীরে খামার বড় করার চেষ্টা করেন স্বপ্না। একপর্যায়ে ছাগলের সংখ্যা ১২টিতে উন্নীত হয়। কিন্তু হঠাৎ রোগে আক্রান্ত হয়ে ছয়টি ছাগল মারা যায়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ছাগল মারা যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তবে সব প্রতিকূলতা সামলে আবারও ঘুরে দাঁড়ান স্বপ্না। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ১৮টি ছাগল। এসব ছাগলের মধ্যে তোতা, হরিয়ানা, বিটল, যমুনাপাড়ি ও ব্ল্যাক বেঙ্গলসহ বিভিন্ন জাত রয়েছে।
"আমি চাই না, জীবিকার জন্য আর কারও কাছে হাত পাততে হোক। এই খামার দিয়েই আমার সংসার চলে। অনেক কষ্ট করে খামারটি দাঁড় করিয়েছি। মাঝেমধ্যে ছাগল মারা যাওয়ায় লোকসানও হয়েছে। তারপরও হাল ছাড়িনি। আমার স্বপ্ন, খামারটিকে আরও বড় করা। সরকার যদি আমাকে সহযোগিতা করে, তাহলে আরও উন্নতভাবে ছাগল পালন করতে পারব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর মিলপাড়া এলাকা (রেলওয়ে জায়গা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বপ্না (২৩), রফিকুল ইসলাম, নুরজাহান বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮টি ছাগল, ২৩ বছর বয়স, ১৩-১৪ হাজার টাকা, ১ লাখ-১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪০০-৫০০ টাকা, ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!