📌 কুড়িগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন
কুড়িগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে প্রায় ১৫০ জনের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মজলুম পরিবার’ নামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাঁরা বিনিয়োগের টাকা ফেরত, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুড়িগ্রামে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
- 📌 প্রায় ১৫০ জন ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে
- 📌 অভিযুক্ত চার নেতা হলেন শাহজালাল সবুজ, রফিকুল ইসলাম, রোকন আবদুস সালাম ও কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম
- 📌 ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে মুনাফা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান
- 📌 দলীয় তদন্তে রফিকুল ইসলামকে বহিষ্কার এবং শাহজালাল সবুজের রোকনিয়ত দুই মাস স্থগিত করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াত ইসলামীর নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলেছেন প্রায় ১৫০ জন ভুক্তভোগী। তাঁরা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে মোট ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে ছিলেন শাহজালাল সবুজ, রফিকুল ইসলাম, রোকন আবদুস সালাম ও কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে কিছু মুনাফা দিলেও ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। একই বছরের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও রাখেননি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, তাঁরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।
ভোগডাঙ্গা স্কুলের শিক্ষক মোহফুজুল হক জানান, তিনি ২০২২ সালে রফিকুল ইসলাম ও শাহজালাল সবুজের উপস্থিতিতে সাড়ে ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রতিষ্ঠানটি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ থেকে লাভ দেওয়ার কথা বলে প্রাথমিকভাবে মুনাফা দিলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। চর যাত্রাপুরের বাসিন্দা মোছলেমা বেগম জানান, তিনি সুদমুক্ত ব্যবসার কথা বলে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু দুই বছর ধরে কোনো টাকা ফেরত পাননি।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা জেলা জামায়াত আমির আজিজুর রহমানের কাছে অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান পাননি। জেলা জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্ব জানান, দলীয় তদন্তে রফিকুল ইসলামকে বহিষ্কার এবং শাহজালাল সবুজের রোকনিয়ত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অন্য দুজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
"ভিশন এন্টারপ্রাইজ মূলত রাজারহাট উপজেলার রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ব্যবসা। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।" — শাহজালাল সবুজ
"ছয় পরিচালকই ব্যবসা থেকে সুবিধা নিয়েছেন।" — রফিকুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুড়িগ্রাম জেলা, রাজারহাট উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহজালাল সবুজ, রফিকুল ইসলাম, রোকন আবদুস সালাম, আজিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ কোটি টাকা, ১৫০ জন, ৯ লাখ টাকা, ১০ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!