📌 ঢাকার ফার্মগেট এলাকার কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতেন রাকিবুল ইসলাম। ১৬ সেপ্টেম্বর অপহরণের পর ৬ অক্টোবর নীলফামারীর ডিমলা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও পরিবার ও এলাকাবাসীর শোক আরও বেড়েছে
টাঙ্গাইলের গোপালপুরের কৃষক পরিবারের মেধাবী ছেলে রাকিবুল ইসলামের মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীদের শোকের গভীরতায় পরিণত করেছে। এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটিতে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন। রাকিবুলের স্বপ্ন ছিল আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া, কিন্তু তার সেই স্বপ্নের পথে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাকিবুল ইসলাম (২০) ঢাকার ফার্মগেট কোচিং সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
- 📌 ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে হোয়াটসঅ্যাপে ডেকে নেন। এরপর আর ফিরেননি।
- 📌 ৬ অক্টোবর নীলফামারীর ডিমলা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
- 📌 এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও পরিবার ও এলাকাবাসীর শোক বাড়ে।
- 📌 অপহরণকারী আবদুল্লা আল মামুন (ওরফে মামুন সরকার) ধানমন্ডিতে হত্যা করে তার মরদেহ কার্টনে ভরে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান।
- 📌 মামুন জানিয়েছেন, রাত ১০টায় অটোরিকশায় কার্টনটি রংপুরে নিয়ে যান। পরদিন সকালে নীলফামারীর ডিমলায় মাটি চাপা দেন।
- 📌 ৫ অক্টোবর ঢাকার কাফরুল থানায় অপহরণ ও হত্যার মামলা দায়ের করা হয়।
📰 বিস্তারিত
রাকিবুল ইসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদিরআটা গ্রামে। তিনি কৃষক খাদেমুল ইসলাম ও জোহুরা বেগমের ছেলে। এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেলেও তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর শোকের গভীরতা বেড়েছে। রাকিবুল পূর্ব শেওড়াপাড়ায় বন্ধুদের সঙ্গে মেসে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির কোচিং করতেন।
১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তি রাকিবুলের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন। এরপর রাকিবুল তার বন্ধুদের বলেন যে, বাইরে যাবেন। রাত ১২টা ২৩ মিনিটে তার বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ফোন করেন। একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বলেন, রাকিবুলকে ফিরে পেতে ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। এরপর তার দুটি ফোন নম্বর বন্ধ হয়ে যায়। পরিবার মুক্তিপণ দাবি জানায়। চার লাখ টাকা দিলেও রাকিবুল ফিরে আসেননি।
৫ অক্টোবর ঢাকার কাফরুল থানায় অপহরণ ও হত্যার মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ গ্রেপ্তার করেন আবদুল্লা আল মামুন (ওরফে মামুন সরকার)। মামুনের জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিবুলকে ধানমন্ডির বাসায় নিয়ে হত্যা করেন। তারপর মরদেহ কার্টনে ভরে টেপ দিয়ে মুড়িয়ে রাখেন। রাত ১০টায় অটোরিকশায় করে কার্টনটি গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। সেখান থেকে বাসে রংপুরে যান। পরদিন সকাল ১০টায় কার্টনটি নিয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় পৌঁছান। সারা দিন বাড়ির পাশের সুপারিবাগানে রাখেন এবং সন্ধ্যায় মাটি চাপা দেন।
"আমার ভাই এত ভালো রেজাল্ট করেছে, তারপরও আমাদের কাঁদতে হচ্ছে। শুধু আমরা নই, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ওর সহপাঠীরাও শোকাহত। ভাই ভালো রেজাল্ট করেছে, আমাদের সবার মাঝে মিষ্টি বিতরণ করার কথা। কিন্তু তা করতে পারছি না। আমাদের কান্নাকাটি করতে হচ্ছে।"
রাকিবুলের মা পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার মানুষও মেনে নিতে পারছেন না মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন পরিণতি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা, দাদিরআটা গ্রাম; ঢাকার ফার্মগেট, ধানমন্ডি, কাফরুল থানা, গাবতলী বাসস্ট্যান্ড, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাকিবুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, আবদুল্লা আল মামুন (মামুন সরকার), খাদেমুল ইসলাম, জোহুরা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫.০, ১৬ সেপ্টেম্বর, ৬ অক্টোবর, ১৫ লাখ টাকা, ৪ টা, ১২টা ২৩ মিনিট, ১০টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!