📌 পিটাছড়ার অরণ্যে অনুষ্ঠিত 'বন ও প্রাণের উৎসব-২০২৬'-এ প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পাহাড়ের সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী খেলা-কৌশল প্রদর্শিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ৭৫ একর সংরক্ষিত বনে ১৫০+ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসবে পরিবেশকর্মী মাহফুজ রাসেলের নেতৃত্বে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মিলন ঘটে
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার পিটাছড়া ফরেস্টে শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ‘বন ও প্রাণের উৎসব-২০২৬’ প্রকৃতি ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলায় পরিণত হয়। পাহাড়ের সবুজ অরণ্য, পাখির কলকাকলি ও বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণের মাঝে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। পিটাছড়া ফরেস্ট ও বায়োডাইভার্সিটি কনজার্ভেশন ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মিলনমেলায় প্রকৃতিপ্রেমী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন পেশার মানুষের মিলন ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩১ অক্টোবর** খাগড়াছড়ির পূর্ব খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ‘বন ও প্রাণের উৎসব-২০২৬’
- 📌 **৭৫ একর** সংরক্ষিত অরণ্যে ১৫০+ পাখি, ২৭ সাপ ও ২০ ব্যাঙ-কচ্ছপ প্রজাতির জীববৈচিত্র্য প্রদর্শিত হয়
- 📌 **ঘিলা খেলা, বাঁশ বেয়ে ওঠা ও হাঁড়ি ভাঙা** প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় স্থানীয় জনগোষ্ঠী
- 📌 **পিটাছড়া পরিবেশ সম্মাননা-২০২৬** পান পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের তিনটি প্রতিষ্ঠান
- 📌 **মাহফুজ আহমেদ রাসেল** বলেন, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগের লক্ষ্য
📰 বিস্তারিত
পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক পরিবেশকর্মী মাহফুজ আহমেদ রাসেলের নেতৃত্বে এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃতি সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা। পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী খেলা-কৌশল যেমন ঘিলা খেলা, তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে ওপরে ওঠা ও হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণকারীদের শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তুলে। এই খেলাগুলো শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পিটাছড়ার ৭৫ একর সংরক্ষিত অরণ্যের জীববৈচিত্র্য। এখানে প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি, ২৭ প্রজাতির সাপ এবং ২০ প্রজাতির ব্যাঙ ও কচ্ছপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বনের ভেতর লজ্জাবতী বানর, বনরুই ও মেছোবিড়ালের দেখা মিলে প্রকৃতির সমৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়। তবে নির্বিচারে বন উজাড় ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় পাহাড়ের প্রকৃতি আজ হুমকির মুখে। এই বাস্তবতায় পিটাছড়ার সংরক্ষণ উদ্যোগ শুধু বন রক্ষার প্রচেষ্টা নয়, বরং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য প্রকৃতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া উৎসব উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিকল্প নেই। পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এ অঞ্চলের অমূল্য সম্পদ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগকে সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।
"শুধু বন রক্ষা নয়, মানুষ ও প্রকৃতির মেলবন্ধন ফিরিয়ে আনতে চাই। পাহাড়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।"
— **মাহফুজ আহমেদ রাসেল**, পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পিটাছড়া ফরেস্ট, মাটিরাঙ্গা উপজেলা, খাগড়াছড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহফুজ আহমেদ রাসেল, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রিতু পারভী, হরিরামপুরের ‘শ্যামল নিসর্গ’, সোহেল শ্যাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৫ একর বন, ১৫০+ পাখি প্রজাতি, ২৭ সাপ প্রজাতি, ২০ ব্যাঙ-কচ্ছপ প্রজাতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!