📌 পদ্মা-যমুনায় ইলিশের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষেও জেলেরা এক-দুই কেজি মাছ পাচ্ছেন। ঋণে জাল-নৌকা তৈরি করে কষ্টে দিন কাটানোর পর এ হতাশা তাদেরকে আরও দুর্বল করছে
পদ্মা-যমুনা নদীতে ইলিশের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জের শিবালয় জেলেদের হতাশা চূড়ায়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরেও জেলেরা আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। এক-দুই কেজি মাছ পাওয়াই তাদের জন্য বড় সাফল্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যেখানে আগে এক থেকে দেড় মণ মাছ পাওয়া যেত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষেও পদ্মা-যমুনায় মাছ ধরতে নামা জেলেরা এক-দুই কেজি মাছ পাচ্ছেন, যেখানে আগে এক থেকে দেড় মণ মাছ পাওয়া যেত।
- 📌 শিবালয় উপজেলার জেলেরা ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামলেও মাছের পরিমাণ নগণ্য — অধিকাংশই ছোট আকারের ইলিশ।
- 📌 সরকারি বরাদ্দের ২৫ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও শিবালয় উপজেলার ২ হাজার ৪৭৩ জন জেলের মধ্যে মাত্র ৬১ দশমিক ৮২৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
- 📌 জেলেদের ঋণ, মশলা-তেলের খরচ, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচে সংসার চালানোর জন্য নদী থেকে মাছের অভাবে তারা জাল-দড়ি গুটিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
- 📌 শিবালয় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী বলেছেন, নদীর নাব্য সংকট, ডুবোচর, ভাটিতে বাঁধ এবং কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার ইলিশের চলাচল বাধাগ্রস্ত করেছে।
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জেলেরা ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতের নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা-যমুনায় মাছ ধরতে নামলেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না। শিবালয়ের আরিচা মাছঘাটে জেলেরা জানিয়েছেন, কয়েক দফা জাল ফেলেও কারও কারও জালে মাত্র এক-দুই কেজি মাছ উঠছে। বেশিরভাগ ইলিশ ছোট আকারের, যা তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অপারগ করে তুলেছে।
জেলেদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে ঋণের কারণে। তারা নৌকা, জাল ও দড়ি তৈরি করতে ঋণ নিয়েছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কষ্টের দিন কাটাতে গিয়ে কেউ কেউ সরকারি বরাদ্দের চাল পেয়েছেন, কিন্তু সবাই পাননি। এমনকি চাল পাওয়ার পরও তেল, নুন ও মশলার খরচ, অসুখ-বিসুখের চিকিৎসা ও ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচে তারা সংসার চালাতে পারছেন না।
পাশাপাশি আড়তদাররাও হতাশ। শিবালয় বাজার মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাবেক সভাপতি আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরের দিনও এক মণ মাছও বিক্রি করতে পারেননি। তিনি ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে নদীর নাব্য সংকট, ডুবোচর, ভাটিতে বাঁধ এবং কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার উল্লেখ করেছেন।
"দীর্ঘ ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রেখে সরকারি নিষেধাজ্ঞা পালন করেছি। এ সময় কোনো প্রণোদনার চাল পাইনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। নিষেধাজ্ঞা শেষে ২৯ অক্টোবর রাতে নদীতে গিয়ে মাত্র তিন কেজি ইলিশ পেয়েছি। সেগুলো আকারে খুবই ছোট। এভাবে চললে জাল-দড়ি গুটিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।"
শিবালয় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী বলেছেন, নদীতে ডুবোচর, নাব্য সংকট, জাল পুঁতে রাখা এবং দূষণসহ নানা কারণে ইলিশের উপস্থিতি কমেছে। তিনি বলেন, ইলিশ গভীর পানির মাছ। চলাচলের পথে বাধা পেলে সামনে না এগিয়ে ফিরে যায়। এ কারণে এবার ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শিবালয় উপজেলা, মানিকগঞ্জ; পদ্মা-যমুনা নদী; আরিচা মাছঘাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মানিক শেখ, মো. ছাত্তার শেখ, শহিদ মিয়া, ইব্রাহিম ব্যাপারী, আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক, সাথী রানী নিয়োগী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা; ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত; ২৫ কেজি চাল; ২ হাজার ৪৭৩ জন জেলে; ৬১ দশমিক ৮২৫ মেট্রিক টন চাল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!