📌 নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা লাঞ্ছিত হয়ে চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ৫০২ হেক্টর জমি, নদীভাঙনে ৫০টি বাড়ি ডুবে গেছে। ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা লাঞ্ছিত হয়ে চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উপজেলার প্রায় ১৫টি চর ও নিচু এলাকাকে বিপদে ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, যেখানে গো খাদ্য দেখা দিয়েছে এবং নদীভাঙনে ৫০টি বাড়ি ডুবে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত, ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজে পানির লেভেল ১৩ মিটার
- 📌 প্লাবিত হয়েছে ৫০২ হেক্টর জমি, যার মধ্যে ৪৩৫ হেক্টর আখ, ৭ হেক্টর সবজি ও ৬০ হেক্টর ফল
- 📌 ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত, ৫০টি বাড়ি নদীভাঙনে ডুবে গেছে
- 📌 উপজেলা প্রশাসন ৩০ পরিবারের জন্য জিআর চাউন বিতরণ করেছে
📰 বিস্তারিত
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রিফাত করিম জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, গতকালের তুলনায় পানি ৪ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর এবং নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে।
প্লাবিত এলাকায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৫ হেক্টর আখ, ৭ হেক্টর সবজি ও ৬০ হেক্টর ফল। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, “হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে আমার ২ বিঘা জমির মুলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। আরো ৪ বিঘা জমি তলিয়ে যাবে যদি পানি কমে না যায়।”
পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর চরে পদ্মার চরে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০টি বসতঘর ডুবে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, “গবাদি পশু নিয়ে বিপদে আছি। বানের পানিতে চারাঞ্চল ডুবে গেছে, ঘাসের অভাবে মহিষকে শুধু ধানের শুকনো পোয়াল খাওয়াচ্ছি।”
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, “চর এলাকা পরিদর্শন করেছি। পদ্মার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় চর এলাকার বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবীর হোসেন জানান, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের মধ্যে ৩০কেজি করে জিআর চাউন বিতরণ করা হয়েছে।”
"হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে আমার ২ বিঘা জমির মুলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমার আরো ৪ বিঘা মুলা ও বেগুন ক্ষেত তলিয়ে যাবে।"
"গবাদি পশু নিয়ে বিপদে আছি, বানের পানিতে চারাঞ্চল ডুবে গেছে, কোথাও ঘাস নেই মহিষকে এখন শুধু ধানের শুকনো পোয়াল আর পানি খাওয়াচ্ছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালপুর উপজেলা, নাটোর; ঈশ্বরদী ইউনিয়ন, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোঃ রিফাত করিম, মো. আবুল কাশেম, খায়রুল ইসলাম, প্রীতম কুমার হোড়, মোঃ আবীর হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০২ হেক্টর জমি, ১৪০০ কৃষক, ৫০টি বাড়ি, ৩০ পরিবার, ৩০কেজি জিআর চাউন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!