📌 পদ্মা নদীর বন্যা দৌলতপুরের ৩৫টি গ্রামে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ডিঙি নৌকার চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় কারিগররা দ্রুত নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হার্ডিঞ্জ ব্রিজে পদ্মার পানি ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
পদ্মা নদীর বন্যার কারণে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় স্থানীয়দের জন্য ডিঙি নৌকাই হয়ে উঠেছে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। বর্ষার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত বাজারে কারিগররা ডিঙি তৈরিতে ব্যস্ত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দৌলতপুরের ৩৫টি গ্রামে প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী
- 📌 রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ডিঙি নৌকাই হয়ে উঠেছে চরবাসীদের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম
- 📌 ভাগজোত বাজারে ১০০টি ডিঙি বিক্রি হয়েছে; গত বছর বিক্রি হয়েছিল ২০০টি
- 📌 প্রতিটি ডিঙি নৌকার দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা
- 📌 হার্ডিঞ্জ ব্রিজে পদ্মার পানি ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে
- 📌 স্থানীয় কারিগররা এক হাজারাধিক ডিঙি নৌকা বিক্রি করার লক্ষ্যমাত্রা
📰 বিস্তারিত
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩৫টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক সড়ক, যার ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়া, বাজারে যাওয়া বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার জন্য ডিঙি নৌকাই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত বাজারে দেখা যায়, কাঠের আসবাবপত্র তৈরির কারিগরদের অনেকেই এখন ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত। কেউ কাঠ মাপছেন, কেউ হাতুড়ি-বাটালি দিয়ে কাঠের কাঠামো তৈরি করছেন, আবার কেউ নৌকার গায়ে টিন লাগাচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম কনক বলেন, ‘বন্যার সময় প্রতিবছরই ডিঙি নৌকার চাহিদা বাড়ে। এবারও পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নৌকা কিনতে আসছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০টি ডিঙি নৌকা বিক্রি করেছি। গত বছর বিক্রি করেছিলাম প্রায় ২০০ টি। আকার ও কাঠের মানভেদে প্রতিটি নৌকার দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা।’
চরাঞ্চলের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বাড়ার পর আমাদের চরের চলাচলের রাস্তা ডুবে গেছে। বাড়ি থেকে বের হতে হলে নৌকাই একমাত্র ভরসা। তাই প্রয়োজনের তাগিদে ৩ হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে নতুন এই ডিঙি কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’ আরেক বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন জানান, ‘পানি বাড়লে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই থেমে যায়। বাজারে যাওয়া থেকে শুরু করে গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার জন্য এই ডিঙি নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না।’
"পানি বাড়ার পর আমাদের চরের চলাচলের রাস্তা ডুবে গেছে। বাড়ি থেকে বের হতে হলে নৌকাই একমাত্র ভরসা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভাগজোত বাজার, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহিদুল ইসলাম কনক, রাকিবুল ইসলাম, মোজাম্মেল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫টি গ্রাম, ৬০ হাজার মানুষ, ১০০টি ডিঙি, ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!