📌 পাবনা জেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া গ্রামে বজ্রপাতে একসঙ্গে ছয়জন মারা যায়। তাদের মধ্যে তিন চাচাতো ভাই ও এক ফুফাতো ভাই ছিল। পরিবারগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় ঘটনাটি তাদের জন্য আরও কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে
পাবনা জেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের বাসুদেবপুর কবরস্থানে গত শনিবার সকালে একসঙ্গে ছয়জন নিহত ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা এ এলাকায় কখনো ঘটেনি। বজ্রপাতে এই ছয়জন মারা যাওয়ার পর তাদের পরিবারগুলো আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বজ্রপাতে মৃত্যু: পাবনা জেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া গ্রামের সোনাপাতিল বিলে শখের বসে মাছ ধরতে গিয়ে ছয়জন মারা যায়।
- 📌 নিহতদের বয়স: শাওন (২২), রুবেল হোসেন (২২), মিজান হোসেন (১২), সাজিদ ইসলাম (১০), আবদুল্লাহ (১৮) ও ইমন প্রামানিক (১৪)।
- 📌 তিন চাচাতো ভাই ও এক ফুফাতো ভাই: মিজান, ইমন ও আবদুল্লাহ তিন চাচাতো ভাই এবং সাজিদ তাদের ফুফাতো ভাই।
- 📌 পরিবারগুলোর আর্থিক সংকট: মিজান হোসেনের মা নাজমা আক্তার বলেন, ছেলে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিল। এখন পরিবারটি কীভাবে চলবে তা বুঝতে পারছে না।
- 📌 জেলা প্রশাসনের সহায়তা: জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঝপঝপিয়া গ্রামের সোনাপাতিল বিলে বজ্রপাতে ছয়জন মারা যায়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ছিলেন রুবেল হোসেন (২২) এবং শাওন (২২)। মিজান হোসেন (১২), সাজিদ ইসলাম (১০), আবদুল্লাহ (১৮) ও ইমন প্রামানিক (১৪) তাদের সাথে ছিলেন। মিজান, ইমন ও আবদুল্লাহ তিন চাচাতো ভাই এবং সাজিদ তাদের ফুফাতো ভাই।
নিহতদের মধ্যে মিজান হোসেন একটি হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করতেন। তার মা নাজমা আক্তার বলেন, ‘ছেলে গত মাসেই চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে। ছেলের বাবা অসুস্থ। ছেলের আয়েই সংসার চলত। এখন কী দিয়ে কী করবেন বুঝতে পারছি না।’
রুবেল হোসেনের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর ছেলে পাবনা জেলা সদরের ইসলামিয়া কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত। শুক্রবার ছুটির দিনে শখের বশে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যায় সে।
মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন ছেলে মাত্র ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছিলেন। তাদের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় এই ঘটনা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। একসঙ্গে ছয়জনের লাশ দাফন এই প্রথম দেখলাম।"
— স্থানীয় বাসিন্দা রুদ্র মিয়া
মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ বলেন, মারা যাওয়া কেউই মৎস্যজীবী নন। সবাই শখের বশে মাছ ধরতে গিয়েছিল। এর মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই আমরা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। প্রতিটি পরিবারকে নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা জেলা সদর, মালঞ্চি ইউনিয়ন, বাসুদেবপুর কবরস্থান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রুদ্র মিয়া, রফিকুল ইসলাম, নাজমা আক্তার, আমিনুল ইসলাম, কবির আহম্মেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ জন নিহত, ৫০ হাজার টাকা (প্রতিটি পরিবারকে সহায়তা হিসেবে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!