📌 নওগাঁ মহাদেবপুরে ব্যবসায়ী অলিপ চন্দ্র দত্ত (৫৫) সোমবার রাতে হামলায় নিহত হন। মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ওদেরকে চিনি’। পরিবার জানায়, হত্যাকারীরা পূর্বপরিচিতদের মধ্যেই থাকতে পারে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ অনুসন্ধান করছে
নওগাঁ মহাদেবপুরে একটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে রহস্যময় সূত্র উন্মোচিত হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে আটটায় ব্যবসায়ী অলিপ চন্দ্র দত্ত (৫৫) গলিপথে হামলায় আহত হন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার ছোট ভাই সুশান্ত কুমার দত্তকে বলেছিলেন, ‘আমাকে থানায় নিয়ে চল। আমি ওদেরকে চিনি’। এই ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধের সম্ভাবনা উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নওগাঁ মহাদেবপুরের মহাদেবপুর উপজেলায় সোমবার রাত সাড়ে আটটায় ব্যবসায়ী অলিপ চন্দ্র দত্ত (৫৫) হামলায় নিহত হন।
- 📌 মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে থানায় নিয়ে চল। আমি ওদেরকে চিনি’।
- 📌 হত্যাকারীরা অলিপ দত্তের পূর্বপরিচিতদের মধ্যেই থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
- 📌 হত্যাকারীরা ছিনতাইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- 📌 পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ অনুসন্ধান করছে।
📰 বিস্তারিত
মহাদেবপুর উপজেলা সদরের দুলালপাড়া এলাকায় গত সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ব্যবসায়ী অলিপ চন্দ্র দত্তের ওপর হামলা হয়। অলিপ দত্তের ছোট ভাই সুশান্ত কুমার দত্তের বাড়ির সঙ্গে লাগানো গলিতে এই ঘটনা ঘটে। অলিপ দত্তের ‘দুলাল জুয়েলার্স’ নামের একটি সোনার দোকান মহাদেবপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত।
সুশান্ত কুমার দত্ত বলেন, ‘রাত আটটার দিকে আমার বাড়ির পাশেই দাদার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আমি বাড়িতে থাকতেই ছিলাম। বাইরে গোঙানির শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি, আমার বাড়ি থেকে ১০-১২ মিটার দূরেই গলিতে উপুড় হয়ে একজন পড়ে আছে। দৌড়ে গিয়ে লোকটাকে তুলে দেখি, দাদা। ওই সময় দাদা আমাকে বলছিলেন, “আমাকে থানায় নিয়ে চল। আমি ওদেরকে চিনি।” এই কথা বলার পর দাদা আর কোনো কথা বলতে পারেননি। মারাত্মকভাবে আহত হওয়ায় আমরা প্রথমে চিন্তা করেছিলাম, আগে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি, তারপর থানায় যাব।’
অলিপ দত্তের বড় মেয়ে শীলা দত্ত জানান, ‘খুনি বাবার পূর্বপরিচিত কেউ হবে। বাবা থানায় গিয়ে ওদের নাম বলতে চেয়েছিল। হামলার কয়েক দিন আগে বাবা বলেছিলেন, “দোকানে অপরিচিত লোকজন আসতেছে। কম বয়সী কয়েকটা ছেলে দোকানে স্বর্ণালংকার বিক্রি করতে এসেছিল। তাদের বলেছি, তোমাদের কাছ থেকে এসব জিনিস কেনা যাবে না। তোমরা ছোট; তোমাদের মা-বাবাকে নিয়ে আসো।” সম্ভবত ওরাই হত্যাকারী হতে পারে।’
শীলা দত্ত আরও বলেন, ‘বাবার ওপর হামলার কয়েক মিনিট আগে পাকা রাস্তার পাশে একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বাবার পেছন পেছন ২৫-২৬ বছর বয়সী সাদা শার্ট পরা একটা ছেলে আসতেছিল। বাবা পাকা রাস্তা থেকে আমাদের বাড়িতে যাওয়ার গলিপথে ঢোকার কিছুক্ষণ পর বাবার ব্যাগ হাতে ওই ছেলেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। তখন ওর গায়ে সাদা শার্ট ছিল না। কালো গেঞ্জি পরেছিল। বাবাকে যেখানে হামলা করা হয়, সেখান থেকে কয়েক মিনিট দূরে ধানখেত থেকে রক্তমাখা সাদা শার্ট ও চায়নিজ কুড়াল পেয়েছে পুলিশ।’
অলিপ দত্তের স্ত্রী আদুরী রাণী মঙ্গলবার মহাদেবপুর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ জানান, হত্যাকারীরা অলিপ দত্তের গতিবিধি আগে থেকেই অনুসরণ করছিল। হত্যার দিন দোকান থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে কেউ অনুসরণ করছিল। বাড়ির কাছাকাছি গলিপথটি নির্জন হওয়ায় ওত পেতে থাকা ব্যক্তিরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁর কাছে থাকা ছয় ভরি স্বর্ণালংকার ও সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক।
"আমাকে থানায় নিয়ে চল। আমি ওদেরকে চিনি।"
"দোকানে অপরিচিত লোকজন আসতেছে। কম বয়সী কয়েকটা ছেলে দোকানে স্বর্ণালংকার বিক্রি করতে এসেছিল। তাদের বলেছি, তোমাদের কাছ থেকে এসব জিনিস কেনা যাবে না। তোমরা ছোট; তোমাদের মা-বাবাকে নিয়ে আসো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহাদেবপুর উপজেলা, নওগাঁ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অলিপ চন্দ্র দত্ত (৫৫), সুশান্ত কুমার দত্ত, শীলা দত্ত, আদুরী রাণী, ওমর ফারুক (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ বছর (অলিপ দত্তের বয়স), ১০-১২ মিটার (হামলার স্থান থেকে দূরত্ব), ২৫-২৬ বছর (হত্যাকারীর সম্ভাব্য বয়স), ছয় ভরি স্বর্ণালংকার, সাত লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!