📌 নীলফামারী জেলায় সার সরবরাহের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। গুজব ছড়িয়ে পড়লেও ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনমতো সার সরবরাহ করা হচ্ছে। জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে
নীলফামারী জেলায় সার সরবরাহের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ। দেশের বিভিন্ন স্থানে সার সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়লেও এই জেলায় সার সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চলছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর, যা প্রায় সম্পূর্ণ অর্জিত হয়েছে। জেলায় মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৯৬ হেক্টর। অবশিষ্ট জমিতে শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল চাষ হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নীলফামারীতে সার সরবরাহ স্বাভাবিক, গুজব ছড়িয়ে পড়লেও কোনো সংকট নেই
- 📌 মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপণ হয়েছে
- 📌 জেলায় ৫ লাখ ২৮ হাজার কৃষক পরিবার রয়েছে, সার সরবরাহ পর্যাপ্ত
- 📌 আগস্ট মাসে ইউরিয়া ৬ হাজার ৩৭৯ টন, টিএসপি ৫৮৮ টন, ডিএপি ১ হাজার ৮৬১ টন সরবরাহ হয়েছে
- 📌 সেপ্টেম্বর মাসে ৩ হাজার ১৫৬ টন ইউরিয়া, ২২০ টন টিএসপি, ২ হাজার ৮ টন ডিএপি সরবরাহের বরাদ্দ পেয়েছে জেলা
- 📌 জেলায় ২০৬টি সার ডিলার রয়েছে, তাদের মাধ্যমে সার বিতরণ চলছে
- 📌 কৃষকরা সার সংকটের গুজবে অতিরিক্ত সার কিনছেন বলে জানিয়েছেন ডিলার ও কৃষকরা
📰 বিস্তারিত
নীলফামারী জেলায় সার সরবরাহের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ। গুজব ছড়িয়ে পড়লেও ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর, যা প্রায় সম্পূর্ণ অর্জিত হয়েছে। জেলায় মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৯৬ হেক্টর। অবশিষ্ট জমিতে শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল চাষ হচ্ছে। জেলায় ৫ লাখ ২৮ হাজার কৃষক পরিবার রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমনসহ অন্যান্য ফসলের জন্য আগস্ট মাসে ইউরিয়া ৬ হাজার ৩৭৯ টন, টিএসপি ৫৮৮ টন, ডিএপি ১ হাজার ৮৬১ টন এবং এমওপি ১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে শতভাগ সরবরাহ পাওয়া গেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া ৩ হাজার ১৫৬ টন, টিএসপি ২২০ টন, ডিএপি ২ হাজার ৮ টন এবং এমওপি ১ হাজার ৭৭ টন সরবরাহের বরাদ্দ পেয়েছে জেলা। মঙ্গলবার পর্যন্ত মজুত রয়েছে ইউরিয়া ১ হাজার ৯১৬ টন, টিএসপি ৮৯ টন, ডিএপি ৭০০ টন এবং এমওপি ৫৯০ টন। জেলায় সার ডিলারের সংখ্যা ২০৬। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৪, সৈয়দপুরে ৩৪, ডোমারে ৩১, ডিমলায় ৩২, জলঢাকায় ৩৫ এবং কিশোরগঞ্জে ৩০ জন ডিলার রয়েছে।
জেলা সদরের পলাশবাড়ি বাজারের সার ডিলার মেসার্স পোদ্দার ব্রাদার্সে গিয়ে দেখা যায়, সার বিতরণের চিত্র স্বাভাবিক। ডিলার নিশিত কুমার পোদ্দার জানান, সকাল থেকে বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত তাঁর পয়েন্ট থেকে ১০ জন কৃষক সার নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার পয়েন্টে সার মজুত স্বাভাবিক আছে। এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক সার নিতে এসে ফেরত যাননি। তবে আগের তুলনায় কৃষির নিবিড়তা বেড়েছে, কিন্তু বরাদ্দ আগের মতোই আছে।’
কৃষকদের মধ্যে সার সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়লেও তারা সার কিনতে সমস্যা না পাচ্ছেন। জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ আলী (৫০) বলেন, ‘সময়ের মধ্যে সার কিনে জমিতে প্রয়োগ করতে পেরেছি। তবে চারা লাগানোর ২২ দিনের মাথায় টিএসপি সারের প্রয়োজন ছিল। বাজারে বাংলা টিএসপি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে অন্য কোম্পানির একই ধরনের সার পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সার সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও সংকটের গুজবে অনেকে পরবর্তী ফসলের জন্য আগাম সার কিনছেন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও বেশি দামে বিক্রির জন্য সার মজুত করছেন বলে শুনেছি।’
"আমার পয়েন্টে সার মজুত স্বাভাবিক আছে। এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক সার নিতে এসে ফেরত যাননি। তবে আগের তুলনায় কৃষির নিবিড়তা বেড়েছে, কিন্তু বরাদ্দ আগের মতোই আছে।"
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হুমায়রা মণ্ডল বলেন, ‘সার সংকটের কথা কারা বলছেন, কেন বলছেন সেটি খুঁজে দেখতে হবে। মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব প্রতিফলন নেই। এ জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। ডিলার পয়েন্টে বেশি দামে বিক্রিরও কোনো ঘটনা নেই।’ তিনি বলেন, ‘কৃষকদের একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে—জমিতে বেশি সার দিলে বেশি ফলন হবে। এ বিষয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করছি। টিএসপি একবারে প্রয়োগ করতে বলা হয়। অনেক কৃষক সেটি বুঝতে পারেন না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারী জেলা, পলাশবাড়ি বাজার, ইটাখোলা ইউনিয়ন, টুপামারী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোছা. হুমায়রা মণ্ডল, নিশিত কুমার পোদ্দার, মোহাম্মদ আলী, কারিমুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৫ হেক্টর (আমন চারা), ৫ লাখ ২৮ হাজার (কৃষক পরিবার), ৬ হাজার ৩৭৯ টন (ইউরিয়া সরবরাহ), ২০৬ (সার ডিলার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!