📌 গত সাত বছরে নেত্রকোনার দশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা গেছে ৭৯ জন। হাওরাঞ্চলে স্থাপিত বজ্রনিরোধক দণ্ড অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং তালগাছ রোপণ প্রকল্পও ব্যর্থ হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের দাবি, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে
নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের শিকার হয়েছে ৭৯ জনেরও বেশি মানুষ। গত সাত বছরে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা নিয়মিত ঘটে আসছে, কিন্তু কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। জেলার দশ উপজেলায় বজ্রপাতের কারণে জীবন হারানোর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, বিশেষ করে চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে ধান কাটার সময়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত সাত বছরে (২০২০-২০২৬) নেত্রকোনায় বজ্রপাতে মারা গেছে ৭৯ জনেরও বেশি মানুষ
- 📌 ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা গেছেন অন্তত ১৭ জন
- 📌 ৩২টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের প্রকল্পে ৬-৮ লাখ টাকা ব্যয় হলেও অধিকাংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে
- 📌 তালগাছ রোপণ প্রকল্পের চারা পানির অভাবে মারা গেছে, সরকারি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে
- 📌 হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা হলো কৃষিকাজ, মাছ ধরা, গবাদিপশু চরানো ও হাঁস পালন
📰 বিস্তারিত
নেত্রকোনা জেলার দশ উপজেলায় গত সাত বছরে বজ্রপাতে প্রাণহানি হয়েছে ৭৯ জনের। জেলার হাওরাঞ্চল, বিশেষ করে মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরী এলাকায় এই ঘটনা নিয়মিত ঘটে আসছে। প্রতি বছর জীবিকার তাগিদে মানুষ ঘর ছেড়ে চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকিতে পড়ে। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
২০২০ সালে বজ্রপাতে মারা গেছেন ৮ জন, ২০২১ সালে ১৫ জন, ২০২২ সালে ৩ জন, ২০২৩ সালে ১২ জন, ২০২৪ সালে ৮ জন এবং ২০২৫ সালে ১৬ জন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বজ্রপাতে মারা গেছেন অন্তত ১৭ জন। হাওর অঞ্চলের মানুষের দাবি, প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
২০২২ সালে নেত্রকোনায় বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের প্রকল্প চালু করা হয়। ৩২টি দণ্ড স্থাপনের জন্য ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। তবে অধিকাংশ দণ্ড বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছিল। ফলে দণ্ডগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। অনেক দণ্ডের যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যায় এবং কিছু দণ্ড শুধু খুঁটির মতো সাক্ষী হয়ে আছে।
২০১৮ সালে তালগাছ রোপণ প্রকল্পের আওতায় চারা রোপণ করা হলেও পানির অভাবে বেশিরভাগ চারা মারা যায়। সরকারি উদ্যোগে নেওয়া এই প্রকল্পও ব্যর্থ হয়। স্থানীয়রা দাবি করে, হাওরের উন্মুক্ত অঞ্চলে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও তালগাছ স্থাপন করা হলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে পারত।
"প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাতেই বাধ্য হয়ে প্রাণ দিতে হয় অনেকের। প্রতি বছর জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হয়ে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। বাস্তবে কাজের কাজ কিছু হয়নি এখন পর্যন্ত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরী, সাতগাঁও গ্রাম, মেন্দিপুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুল মিয়া (১৭ সেপ্টেম্বর বজ্রপাতে মারা যান), কৃষকরা (সুশীল তালুকদার, জয়নুল আবেদীন, ফারুক মিয়া, ফজলুল হক, অনিল সরকার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৯ জন (৭ বছরে বজ্রপাতে মারা যাওয়া), ৩২টি (বজ্রনিরোধক দণ্ড), ৬-৮ লাখ টাকা (প্রতি দণ্ডের ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!