📌 হবিগঞ্জের মনমোহন বিশ্বাস ৫০ বছর ধরে ঘড়ি মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। আধুনিক প্রযুক্তির বদলে ঘড়ির ব্যবহার কমলেও তিনি পুরোনো পেশায় আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দিনে গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয় তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় ফুটপাতে বসে আছেন মনমোহন বিশ্বাস। ৫০ বছর ধরে ঘড়ি মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ঘড়ির ব্যবহার কমলেও মনমোহন বিশ্বাসের মতো অভিজ্ঞ কারিগরদের পেশা এখনও জীবিকার প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০ বছর ধরে ঘড়ি মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মনমোহন বিশ্বাস
- 📌 দিনে গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয় তার ফুটপাতের এই পেশায়
- 📌 আধুনিক প্রযুক্তির বদলে ঘড়ির ব্যবহার কমলেও তিনি পুরোনো পেশায় আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন
- 📌 হবিগঞ্জের মনতলা এলাকার বাসিন্দা মনমোহন বিশ্বাস আখাউড়ায় চলে আসেন জীবিকার সন্ধানে
- 📌 ঘড়ির ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ, কাঁটা ও ব্যাটারি লাগানোর দক্ষতা অর্জন করেছেন তিনি
📰 বিস্তারিত
প্রযুক্তির প্রসার ও মুঠোফোনের সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ হাতঘড়ির ব্যবহার অনেকাংশে কমে গেছে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় ফুটপাতে বসে আছেন মনমোহন বিশ্বাস। তিনি ৫০ বছর ধরে ঘড়ি মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার কারণে তিনি নষ্ট ঘড়িকে নতুন প্রাণ দিতে পারেন।
মনমোহন বিশ্বাসের বাড়ি হবিগঞ্জের মনতলা এলাকায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই জীবিকার সন্ধানে তিনি মনতলা থেকে আখাউড়ায় চলে আসেন। প্রথমে রিকশা মেরামতের কাজ শুরু করেন। কিছুদিন পর ঘড়ি মেরামতের কাজ শেখার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। স্থানীয় এক ঘড়ি কারিগরের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ঘড়ি মেরামতের কাজ শেখা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি ঘড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, মেশিন এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি শনাক্ত করার দক্ষতা অর্জন করেন।
কোনো কাজ জানা না থাকায় প্রথমে রিকশা মেরামতের কাজ শুরু করেন মনমোহন বিশ্বাস। কিন্তু তার আগ্রহ ছিল ঘড়ি মেরামতের কাজে। স্থানীয় এক ঘড়ি কারিগরের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ঘড়ি মেরামতের কাজ শেখা শুরু করেন। একসময় তিনি ঘড়ির বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ, মেশিন এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি শনাক্ত করার দক্ষতা অর্জন করেন। কয়েক বছর অন্যের সঙ্গে কাজ শেখার পর তিনি নিজেই সড়ক বাজার এলাকায় দোকান ভাড়া নিয়ে ঘড়ি মেরামতের কাজ শুরু করেন। পরে দোকান হাতছাড়া হয়ে গেলে গত কয়েক বছর ধরে ফুটপাতে টোল দিয়ে বসে এই কাজ করছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে অনেক সময় ঘড়ি হাতে নিয়েই সমস্যার জায়গা বুঝতে পারেন মনমোহন বিশ্বাস। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয় তার। তিনি বলেন, “৫০ বছর ধরে এই কাজ করছি। একটা সময় মানুষ ঘড়ি ব্যবহার করত। তখন ঘড়ির কাজও অনেক বেশি ছিল। ঘড়ি নষ্ট হলে মানুষ মেরামত করতে নিয়ে আসত। এখন মোবাইল ফোনের কারণে ঘড়ির ব্যবহার অনেক কমে গেছে। তারপরও যারা ঘড়ি ব্যবহার করেন, নষ্ট হলে মেরামতের জন্য নিয়ে আসেন। তবে কাজের চাহিদা ও আয় দিন দিন কমছে।”
"এই পেশার সঙ্গে আমার জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এখন বয়স হয়েছে। বয়সের সঙ্গে নানা রোগও বেড়েছে। অনেক কষ্টের মধ্যেও কাজটি ভালোবেসে করে যাচ্ছি। যতদিন শরীর সায় দেবে, ততদিন ঘড়ি মেরামতের কাজ করে যেতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া পৌর শহর, সড়ক বাজার এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনমোহন বিশ্বাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর (কর্মজীবন), ৩০০-৪০০ টাকা (দৈনিক আয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!