📌 বরিশালের মহসীন মার্কেটে ব্যবসায়ীদের দু’পক্ষ কর্তৃত্ব দখলের জন্য চাঁদা তোলা ও হামলার অভিযোগে মুখোমুখি হয়েছে। এক পক্ষের নেতা সোহানুর রহমান সুমন বলেছেন, তাদের বিরোধী কমিটির সদস্যরা রড দিয়ে আঘাত করে হত্যার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের নেতা আহমাদুল্লাহ খোকন দাবি করেছেন, তারা ম্যানেজমেন্ট ফি হিসেবে ২০০ টাকা নিচ্ছেন। মার্কেটে প্রায় ২৫০টি দোকানের কর্তৃত্ব নিয়ে সংঘাত চলছে
বরিশালের মহসীন মার্কেটে ব্যবসায়ীদের দু’পক্ষ কর্তৃত্ব দখলের জন্য চাঁদা তোলা ও সহিংসতার অভিযোগে মুখোমুখি হয়েছে। গরিবের বাজার হিসেবে পরিচিত এই মার্কেটে ৮০-এর দশকে কাপড়ের দোকানগুলো শুরু হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে মার্কেটে দু’টি পৃথক ব্যবসায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে এবং এর ফলে সংঘাতের সিরিজ শুরু হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোহানুর রহমান সুমন অভিযোগ করেছেন, ২ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে রড দিয়ে আঘাত করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তার মাথা, ডান কান ও মুখমণ্ডলে আঘাত লাগে।
- 📌 সুমনের নেতৃত্বাধীন কমিটি দাবি করে, বিরোধী কমিটির সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার চেষ্টা করছে এবং বহিরাগতদের ব্যবহার করে ভয় দেখাচ্ছে।
- 📌 বিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমাদুল্লাহ খোকন দাবি করেছেন, তারা চাঁদা নিচ্ছেন না, বরং ম্যানেজমেন্ট ফি হিসেবে ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন।
- 📌 সরোয়ার ভাই (এমপি অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার) সুমনের কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন, কিন্তু ১৪ জুলাই প্রতিপক্ষের কমিটি গঠিত হয়।
- 📌 মহসীন মার্কেটে প্রায় ২৫০টি কাপড়ের দোকান থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, মার্কেটে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং মাদক সেবনের ঘটনা ঘটছে।
📰 বিস্তারিত
মহসীন মার্কেটের কর্তৃত্ব নিয়ে সংঘাতের নতুন পর্যায়ে সোহানুর রহমান সুমন আজ রোববার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, গত ২ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে সোহাগ, জাহাঙ্গীর, সেলিম, খোকন ও শিপন নামের পাঁচজন ব্যক্তি রড দিয়ে আঘাত করে হত্যার হুমকি দিয়েছে। তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, কিছু ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে একটি কথিত কমিটিকে বৈধ হিসেবে দাবি করছে। ওই কমিটির সদস্যরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে এবং বহিরাগতদের ব্যবহার করে ভয় দেখাচ্ছে।
সুমনের অভিযোগ, কথিত কমিটির সভাপতি হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত আহমাদুল্লাহ খোকন নিজেদের পরিচয় দিলেও তাদের নামে মহসীন মার্কেটে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নেই। তিনি জানান, গত ৭ জুন এমপি সরোয়ার তার কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৪ জুলাই প্রতিপক্ষের কমিটি গঠিত হয়।
বিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক দাবিদার আহমাদুল্লাহ খোকন বলেছেন, ৫ আগস্টের পর সুমন ও তার সহযোগীরা অবৈধ প্রভাব খাটাতে শুরু করেছে। তিনি দাবি করেছেন, এমপি সরোয়ার ভাই না বুঝে সুমনের কমিটির সুপারিশ করেছেন। কিন্তু ১৪ জুলাই সভা করে তারা ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। খোকন জানান, তার সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগকে মারধর করার অভিযোগে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা এসব বিষয় জানাতে রোববার সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের কাছে গিয়েছিলেন।
মহসীন মার্কেটের প্রায় ২৫০টি কাপড়ের দোকানের কর্তৃত্ব নিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ী সুমন ও সোহাগ। ক্রেতাদের অভিযোগ, মার্কেটে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং মাদক সেবনের ঘটনা ঘটছে। ক্রেতারা বলছেন, এখন মহসীন মার্কেট গরিবের গলার কাঁটার বাজারে পরিণত হয়েছে।
"গত ২ সেপ্টেম্বর মহসিন মার্কেট এলাকায় সোহাগ, জাহাঙ্গীর, সেলিম, খোকন, শিপন তাকে রড দিয়ে আঘাত করেন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন। এতে তার মাথা, ডান কান ও মুখমণ্ডলে আঘাত লাগে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহসীন মার্কেট, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোহানুর রহমান সুমন, আহমাদুল্লাহ খোকন, এমপি অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০টি দোকান, ২০০ টাকা (ম্যানেজমেন্ট ফি), ২ সেপ্টেম্বর (হামলার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!