📌 নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিল পরিশোধে তর্কের পর এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। গ্রাহক পরিবার বলেন, কোনো অসৌজন্য আচরণ হয়নি, বরং বিলের পরিমাণ নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দাবি, কর্মীদের গালিগালাজ ও হুমকির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে বিল পরিশোধে তর্কের পর এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন মিয়ার পরিবার জানায়, তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের দুর্ভোগ বাড়ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা দাবি করেন, বিল দিতে গিয়ে গ্রাহক তাদেরকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিল তর্কে স্বপন মিয়ার পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়; এখনও পুনরায় সংযোগ দেয়া হয়নি (৯ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত)।
- 📌 জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে ৩ হাজার ১০০ টাকা বিল আসে স্বপন মিয়ার পরিবারের, অক্টোবরের বিল ৮৭০ টাকা।
- 📌 পল্লী বিদ্যুৎ কর্মী রাশেদ মিয়া জানান, গ্রাহক পরিবারের স্ত্রী আসমা আক্তার বিলের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন করলে কর্মীদের গালিগালাজ ও ডিজিএম ইমদাদুল হককে হুমকি দেওয়া হয়।
- 📌 ভুক্তভোগী পরিবার দাবি, কোনো অসৌজন্য আচরণ হয়নি; শুধু বিলের হিসাব নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
- 📌 পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দাবি, আইনের অধীনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে; স্থানীয় আলোচনার পর পুনরায় সংযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মী রাশেদ মিয়া স্বপন মিয়ার বাড়িতে বিল পরিশোধের জন্য গিয়েছিলেন। বিলের পরিমাণ নিয়ে তর্কের পর ডিজিএম ইমদাদুল হকর নির্দেশে গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। স্থানীয় অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ হামিদুর রহমান জানান, কর্মীদের গালিগালাজ ও হুমকির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
স্বপন মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তার জানান, কোনো অসৌজন্য আচরণ হয়নি। তিনি শুধু জানতে চেয়েছিলেন, এত বেশি বিদ্যুৎ বিল কেন আসছে। কর্মী রাশেদ মিয়া বলেছিলেন, বাড়িতে অফিসের লোকদের সঙ্গে কথা বলতে বললে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কেন অফিসের লোকজনের কাছে যাব? আপনারা যে হিসাব দেবেন, সেই অনুযায়ী বিল আসে।’
আসমা আক্তার আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে আমি ও আমার স্বামী থাকি। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে মাদ্রাসায় থাকে। তাই বিদ্যুৎ খরচও বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ বিল অনেক বেশি আসে। বাড়িতে একটি ফ্রিজ, দুটি লাইট ও ফ্যান চলে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।’
"আমাদের বাড়িতে আমি ও আমার স্বামী থাকি। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে মাদ্রাসায় থাকে। তাই বিদ্যুৎ খরচও বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ বিল অনেক বেশি আসে। বাড়িতে একটি ফ্রিজ, দুটি লাইট ও ফ্যান চলে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।"
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম ইমদাদুল হক জানান, গ্রাহকের মিটার ও রিডিংয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে কর্মীদের গালিগালাজ ও তাঁর হুমকির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইনে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি আলোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না, এমন নিশ্চয়তা পেলে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোহনগঞ্জ উপজেলা, নেত্রকোনা (সুয়াইর ইউনিয়ন, আলীপুর গ্রাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বপন মিয়া (গ্রাহক), আসমা আক্তার (স্ত্রী), রাশেদ মিয়া (পল্লী বিদ্যুৎ কর্মী), ডিজিএম ইমদাদুল হক (পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ হাজার ১০০ টাকা (জুলাই-সেপ্টেম্বর বিল), ৮৭০ টাকা (অক্টোবর বিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!