📌 ঢাকার মিরপুরে বাস করা মাজহারুল ইসলাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ঋণ শোধের জন্য আরো ২০ হাজার টাকা ধার নিতে বাধ্য হন। তার পরিবারের মাসিক আয় ৩৩ হাজার টাকা হলেও ঋণ ও চিকিৎসা খরচের কারণে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, গত মাসে ২৪৬ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছিল
ঢাকার মিরপুরে বাস করা অটোরিকশা চালক মাজহারুল ইসলাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ঋণ শোধের জন্য আরো ২০ হাজার টাকা ধার নিতে বাধ্য হন। তার পরিবারের জীবনযাপন ঋণ ও চিকিৎসা খরচের কারণে ক্রমশ জটিল হয়ে পড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাজহারুল ইসলাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন ওষুধ ও চিকিৎসা খরচ মেটাতে
- 📌 তার মাসিক আয় ৩৩ হাজার টাকা হলেও ঋণ শোধ ও পরিবারের খরচের কারণে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে
- 📌 কিশোরগঞ্জের বন্যা ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার কারণে ঋণে পড়েন মাজহারুল, ঢাকায় আসার পরও ঋণ শোধ করতে পারছেন না
- 📌 স্ত্রী লুৎফা আক্তার পোশাক কারখানায় কাজ করলেও পরিবারের ঋণ ও চিকিৎসা খরচের কারণে আর্থিক সংকট বাড়ছে
- 📌 শিশু হাসপাতালে গত মাসে ২৪৬ জন শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল, চলতি মাসে সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে
- 📌 মাজহারুলের চার সন্তানের মধ্যে ছোটটিকে বয়স ৬ বছর, বড়টিকে ১৩ বছর
📰 বিস্তারিত
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শুয়ে আছেন মাজহারুল ইসলাম। ছয় দিন ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় তিনি ওষুধ ও চিকিৎসা খরচ মেটাতে আরো ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে বাধ্য হন। তার স্ত্রী লুৎফা আক্তার বলেন, ‘আমরা ঋণ শোধ করতে এক বছর আরো সময় লাগবে। এরপর বাড়ি যাবার কথা ছিল, কিন্তু এখনও তা সম্ভব নয়।’
মাজহারুল কিশোরগঞ্জের বন্যা ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার কারণে ঋণে পড়েন। দুই বছর আগে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় আসেন এবং মিরপুরে অটোরিকশা চালান। তবে ঋণ শোধের কারণে তিনি বাড়িতে ফেরার জন্য আরো অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। তার মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর বেতন ১৮ হাজার টাকা। তবে পরিবারের ঋণ ও চিকিৎসা খরচের কারণে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিশু হাসপাতালের আবাসিক সার্জন মাহমুদুল হক জানান, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরে ২৪৬ জন শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল, চলতি মাসে সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেও গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার ঘণ্টায় ১২০ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।
"আমি তো সচেতন ছিলাম। তবু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বাচ্চাটা। কীভাবে সুস্থ রাখব শিশুকে, সেটাই বুঝতে পারছি না।"
হোসনেয়ারা বেগম বলেন, তার মোহাম্মদপুরের বাসায় থাকা তিন বছর বয়সী সন্তান আরিয়ান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তিনি বলেন, আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, মিরপুর-১)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাজহারুল ইসলাম, লুৎফা আক্তার, মাহমুদুল হক, হোসনেয়ারা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ হাজার টাকা (ঋণ), ৩৩ হাজার টাকা (মাসিক আয়), ৬২ জন (হাসপাতালে ভর্তি শিশু), ২৪৬ জন (গত সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত শিশু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!