📌 মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় এক প্রবাসী স্বামী পরিবারিক কলহে স্ত্রী ও একমাত্র শিশুসন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আকরাম হোসেন (৪০), প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) ও তাদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা আক্তার। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে মাথায় ইট দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত এবং শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা করার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বারাহী জান্নাকান্দি গ্রামে পরিবারিক কলহে এক প্রবাসী স্বামী স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন। আজ শনিবার দুপুরে পুলিশ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আকরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) ও তাদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা আক্তার। ঘটনাস্থলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত এবং শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বারাহী জান্নাকান্দি গ্রামে এক প্রবাসী স্বামী পরিবারিক কলহে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন
- 📌 নিহত তিনজন: আকরাম হোসেন (৪০), প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) ও তাদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা আক্তার
- 📌 পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রীকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত এবং শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন
- 📌 নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে
- 📌 ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহী জান্নাকান্দি গ্রামে গত শুক্রবার রাতে পরিবারিক কলহে এক প্রবাসী স্বামী স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন। আজ শনিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সৌদিপ্রবাসী আকরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) ও তাদের দেড় বছরের মেয়ে আলিজা আক্তার।
সূত্র জানায়, আকরাম হোসেন সৌদি আরবে প্রবাসী ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম স্ত্রী তাঁকে তালাক দিয়ে চলে যান। এরপর প্রায় তিন বছর আগে সিঙ্গাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ গ্রামের মহসিন খানের মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন আকরাম। প্রিয়াঙ্কা ও তাদের একমাত্র সন্তান আলিজা আক্তার বাড়িতে টিনের চৌচালা একটি ঘরে থাকতেন। গতকাল শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান তারা। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছিলেন না। দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখে বাড়ির লোকজন তাঁদের ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের বেড়া কেটে প্রিয়াঙ্কা ও মেয়ের লাশ খাটে এবং ফ্যানের সঙ্গে আকরামের লাশ ঝুলতে দেখেন বাড়ির লোকজন।
প্রতিবেশীরা ও নিহতদের স্বজনদের আহাজারি দেখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। আকরামের মা তাহমিনা বেগম আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘আমার কী হইয়্যা গেল রে...। বাবা, ক্যানো তোরা এমন করলি।’ প্রিয়াঙ্কার বড় বোন মিশু আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দাম্পত্য ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে মারধর করা হতো। দু-তিন দিন আগেও তাঁকে মারধর করেন স্বামী। সন্তান কান্না করলেও প্রিয়াঙ্কাকে মারধর করা হয়। মারধরের কারণে প্রিয়াঙ্কা মুখে আঘাত পান। সেই ছবি তুলে প্রিয়াঙ্কা মুঠোফোনে পাঠিয়েছে।’
"পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে মাথায় ইট দিয়ে আগাত করে এবং শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে"
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত এবং শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত তিনজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বারাহী জান্নাকান্দি গ্রাম, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা, কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আকরাম হোসেন (৪০), প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫), আলিজা আক্তার (দেড় বছর), মো. মনির হোসেন (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ (আকরামের বয়স), ২৫ (প্রিয়াঙ্কার বয়স), ১১ (ঘটনার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!