📌 লালমনিরহাটের কৃষকরা সারের অভাবে রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে। ডিলারদের পাচার ও অপারগতার অভিযোগে এক পয়েন্টে ৩০০ বস্তা সার থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের মাত্র ৫-৭ কেজি দেওয়া হয়। কাকিনা ইউনিয়নে ১০ বস্তা সার পাচারের অভিযোগে ডিলার আটক ও সার জব্দ করা হয়
লালমনিরহাট জেলায় সারের অভাবে কৃষকদের ক্রোধে রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। আজ রোববার দুপুরে মহেন্দ্রনগর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) গুদামের সামনে অবরোধ ঘটে। কৃষকরা দাবি করছেন, চলতি আমন মৌসুমে ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার পরিবর্তে ডিলার ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে সংকট চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহাসড়ক অবরোধ: সারের অভাবে লালমনিরহাটের কৃষকরা রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে। গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
- 📌 সারের অপারগতা: চাহিদার ৪০ কেজি সার দাবি করলেও কৃষকদের মাত্র ৫-৭ কেজি দেওয়া হয়। কেউ কেউ তা-ও পাচ্ছেন না।
- 📌 পাচারের অভিযোগ: কাকিনা ইউনিয়নে ১০ বস্তা সার পাচারের অভিযোগে ডিলার নয়নকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। সার জব্দ ও বিক্রি পয়েন্ট সিলগালা করা হয়।
- 📌 প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান ও পুলিশ সুপার আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর সার বিক্রি শুরু হয়।
📰 বিস্তারিত
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকায় অবস্থিত বাফার গুদামে সার বিক্রির দোকান খোলার পর কৃষকদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা দেখা দেয়। চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫-৭ কেজি সার দেওয়ার অভিযোগে কৃষকরা ডিলার পয়েন্টের বিক্রেতাদের ধাওয়া দেন। এরপর তারা মহাসড়ক অবরোধ করে স্লোগান দেন। জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান ও পুলিশ সুপার আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর সার বিক্রি শুরু হয়।
কাকিনা ইউনিয়নে একই দিনে ঘটে যায় পাচারের অভিযোগ। মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের পয়েন্ট থেকে ১০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়া ভ্যানটি কৃষকরা আটক করে। বিক্ষুব্ধ কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামকে খবর দেন। পরে ইউএনও ও পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিলার নয়নকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। ১০ বস্তা সার জব্দ করা হয় এবং বিক্রি পয়েন্ট সিলগালা করা হয়।
কৃষক সাহেব আলী বলেন, ‘টানা তিন দিন পর আজ সকালে ডিলার দোকান খুলেছিল। তখন চাহিদার তুলনায় অনেক কম সার দেওয়া হচ্ছিল। অল্প সার দিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না, আবাদ নষ্ট হচ্ছে সারের অভাবে। সরকার বলে—পর্যাপ্ত সার রয়েছে; কিন্তু আমরা কিনতে গেলে ডিলারেরা বলে—সার কম, কম করে নিতে হবে।’
"জেলার সব বিক্রি পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার রয়েছে, কোনো সংকট নেই। বৃষ্টির কারণে সার বিক্রি সাময়িক বন্ধ রাখায় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বিশৃঙ্খলা করতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিল। ওই পয়েন্টে ৩০০ বস্তা সার মজুত ছিল, সেখানে সার নিতে এসেছিলেন ৫০ জনের মতো কৃষক।"
জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, জেলার সব বিক্রি পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে সার বিক্রি সাময়িক বন্ধ রাখায় কিছু দুষ্কৃতকারী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, ওই পয়েন্টে ৩০০ বস্তা সার মজুত ছিল, সেখানে সার নিতে এসেছিলেন ৫০ জনের মতো কৃষক।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমনিরহাট সদর উপজেলা (মহেন্দ্রনগর), কাকিনা ইউনিয়ন, রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষক সাহেব আলী, জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, ডিলার নয়ন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ বস্তা সার (মজুত), ৫০ জন কৃষক, ১০ বস্তা সার (পাচার), ৪০ কেজি (চাহিদা), ৫-৭ কেজি (দেওয়া হয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!