📌 কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি প্লাবিত হয়েছে। ২০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, খাবার ও পানির সংকটে পড়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে
কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় জেলার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে দুই ইউনিয়নের ২০ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্লাবিত হয়েছে ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি, যার মধ্যে আমন ধান ও পাটের কিছু অংশ নষ্ট হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ২০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
- 📌 ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি প্লাবিত, খাবার ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে
- 📌 ৪০টি গ্রামের ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত, ১৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণের পরিকল্পনা
- 📌 পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য: হার্ডিঞ্জ ব্রিজে পানি আগের দিনের তুলনায় ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে
- 📌 দুর্গত এলাকায় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা
📰 বিস্তারিত
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে দুই ইউনিয়নের ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং ১৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দুজন মেডিকেল অফিসার নিয়ে একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি টিম গঠন করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আগের দিনের তুলনায় ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা ও যাতায়াতের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানান, পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অনেকের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে এবং খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। চলাচলের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে দুই ইউনিয়ন প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের যথাযথ সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কথা বলেছেন তিনি। এছাড়া তিনি বলেন, দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
"পানি বৃদ্ধির কারণে চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা ও যাতায়াতের সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের অন্তত ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা, চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনিন্দ্য গুহ (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা), রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা (সংসদ সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৭১ হেক্টর (প্লাবিত জমি), ২০ হাজার (পরিবার), ৫০ হাজার (মানুষ), ৬ সেন্টিমিটার (পানি বৃদ্ধি), ১৬ মেট্রিক টন (চাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!