📌 কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর ডুবো সড়ক নির্মাণের মাত্র তিন বছরের মধ্যে ৯ কিলোমিটার সংস্কার করা হলেও সংস্কারকৃত অংশেই এখন শত শত খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তিন উপজেলার হাজারো মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ছে
কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর ডুবো সড়ক নির্মাণের মাত্র তিন বছরের মধ্যে প্রায় ৯ কিলোমিটার সংস্কার করা হলেও সংস্কারকৃত অংশেই এখন শত শত খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন তিন উপজেলার হাজারো মানুষের যাতায়াতের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর ডুবো সড়ক নির্মাণের তিন বছরের মধ্যে ৯ কিলোমিটার সংস্কার করা হলেও সংস্কারকৃত অংশেই খানাখন্দের সমস্যা বেড়েছে
- 📌 সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন তিন উপজেলা (অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন) থেকে হাজারো মানুষের যাতায়াতের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে
- 📌 সড়ক নির্মাণের সময় ২০১১-২০১৪ সালে ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দে ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক নির্মিত হয়েছিল
- 📌 সড়কের সংস্কার করা অংশে সিসি ঢালাইয়ের পাথর-কংক্রিট বালু উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে
- 📌 সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানায়, সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানই সংস্কার করেছিল
📰 বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে হাওরবেষ্টিত তিন উপজেলার (অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন) মানুষের প্রথম সড়ক যোগাযোগ শুরু হয় ডুবো সড়কের মাধ্যমে। ২০১৪ সালে চালু হওয়া এই সড়কটি নির্মাণের তিন বছরের মধ্যে প্রায় ৯ কিলোমিটার সংস্কার করতে হয়েছিল। সংস্কারের অংশগুলোতেই এখন শত শত খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ভাঙা সড়কে যানবাহনের কম গতিতে চলা এবং ঝাঁকুনির কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তিন উপজেলার হাজারো মানুষ। অষ্টগ্রাম উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ২০১১-২০১৪ সালে তিনটি সেতুসহ ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দে নির্মিত হয় ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর ডুবো সড়ক।
বর্ষার সময় সড়কটি ডুবে যায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি নেমে গেলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু হয়। এই কারণে সড়কটির নাম হয়েছে ডুবো সড়ক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসইএল, এমবিইএল ও জেআই জয়েন্ট ভেঞ্চার লিমিটেড ১৭ কিলোমিটার অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর ডুবো সড়ক নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ পেলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ঢাকার এক্সপেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেড।
এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন রোগীসহ কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত এবং তিন উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের পণ্য পরিবহন করা হয়। দুই বছর ধরে সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কংক্রিট উঠে গিয়ে ভাঙন ও সৃষ্ট খানাখন্দে চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের।
"এই পথে বাইধ্য না হলে গাড়ি লইয়্যা আসি না। থেকনার (উঁচু থেকে নিচুতে পড়া) কারণে গাড়ির ব্যাটারি নষ্ট হয় বেশি। গাড়ির জয়েন্ট প্রায় সময় ছুটে যায়। সময় লাগে বেশি। আমরা চাই হয়তো সড়ক মেরামত করুক, না হয় ওপরের প্লাস্টার (সিসি ঢালাই) উঠাইয়্যা দেওক। এতেই শান্তি। তাতে সড়ক একটু সমান হবে। শান্তিতে চলাচল করা যাবে।"
অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, “অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর ডুবো সড়কটি সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। আশা করি, তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, “আমি যতটুকু জানি, এই সড়কে আলাদা করে সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত। সম্ভবত সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই মেরামত করছিল। তবে খানাখন্দের কারণে মানুষের ভোগান্তির কথা জেনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হবে। অন্তত সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী গেলেও তা দ্রুত করব। অন্যথায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাথী দাস (ইউএনও), শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল (নির্বাহী প্রকৌশলী), হাফিজ মিয়া, আনোয়ার খাতুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ কিলোমিটার (সংশ্কারকৃত অংশ), ১২৬ কোটি টাকা (বরাদ্দ), ১৭ কিলোমিটার (সড়কের দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!