📌 কটিয়াদীর প্রতিবন্ধী কামাল হোসেন (৪২) জন্মগত অক্ষমতার মুখোমুখি হলেও ১২ বছর বয়স থেকে গাছ ছাঁটাই করে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবারকে বাঁচিয়ে চলেছেন। দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হলেও বয়স ও শারীরিক কষ্টের কারণে স্থায়ী কর্মসংস্থানের আশা করছেন তিনি
কটিয়াদীর প্রতিবন্ধী কামাল হোসেন (৪২) জন্ম থেকেই দুই পা অচল হলেও জীবনের প্রতিটি দিনকে সংগ্রামের মাঠে রূপান্তর করেছেন। গাছ ছাঁটাই করে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবারকে বাঁচিয়ে চলেছেন এই অদম্য সাহসী মানুষ। কামালের জীবনের গল্প একই সাথে অনুপ্রেরণার উৎস এবং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **কটিয়াদীর প্রতিবন্ধী কামাল হোসেন (৪২)** জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলেও ১২ বছর বয়সে গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু করেন এবং এখনও ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই পেশায় আছেন।
- 📌 **দৈনিক ৪০ ফুট দড়ি ও অটোরিকশা নিয়ে** বাড়ি-বাড়ি ঘুরে গাছ ছাঁটাই করে দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করেন, কিন্তু কাজের অভাবে প্রায়ই অনিশ্চিত জীবিকা নিয়ে সংসার চালান।
- 📌 **বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের** খরচ চালাতে হিমসিম খেতে হয় কামালকে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু বাকি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
- 📌 **কামালের স্ত্রী পারভিন আক্তার** বলেছেন, "গাছে উঠা ও কাজ করা বয়স বাড়ার সাথে সাথে আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি আমাদের একটি মুদি দোকান করে দিত, তাহলে পরিবার নিয়ে সংসার চালাতে পারতাম।"
- 📌 **মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহেল মিয়া** বলেছেন, "৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গাছ ছাঁটাই করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কামাল। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই শ্রমনির্ভর কাজ তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠছে।"
📰 বিস্তারিত
কটিয়াদীর কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পং মসূয়া খাঁ বাড়ির আব্দুল হেকিম খাঁর ছেলে কামাল হোসেনের জীবন একটি অসহায়ত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প। জন্ম থেকেই দুই পা অচল হলেও তিনি কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাননি। মাত্র ১২ বছর বয়সে গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু করলেন। সেই থেকে টানা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি একই কাজে নিয়োজিত আছেন। প্রতিদিন একটি দা, প্রায় ৪০ ফুট দড়ি ও অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে গাছ ছাঁটাই করেন। কাজ মিললে দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হয়, কিন্তু প্রতিদিন কাজ থাকে না। ফলে অনিশ্চিত এই আয় দিয়েই বৃদ্ধ বাবার ওষুধ, স্ত্রী-সন্তানের খাবার, পোশাক ও পড়াশোনার খরচ চালাতে হচ্ছে তাকে।
কামালের পরিবারে রয়েছে বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু অন্য সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করতে হিমসিম খেতে হয় তাকে। স্থানীয় সমাজসেবক মোস্তফা কামাল বলেছেন, "প্রতিবন্ধী হলেও কামাল কারও কাছে ভিক্ষা চান না। নিজের শ্রম দিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে সংসার চালাচ্ছেন। প্রতিদিন তাকে দা, দড়ি ও অটোরিকশা নিয়ে কাজের সন্ধানে বের হতে দেখা যায়। তাঁর মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।"
কামালের জীবনের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "জন্ম থেকেই আমার দুই পা অচল। ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে আসছি। ১২ বছর বয়স থেকে গাছ ছাঁটাইয়ের কাজ করি। মানুষের গাছ পরিষ্কার করে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাই। প্রতিদিন কাজ পাওয়া যায় না। কাজ না থাকলে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়। এখন বয়স হয়েছে। আগের মতো শরীরে শক্তি নেই। তারপরও সংসারের জন্য কাজ করতে হয়।"
"আমার স্বামী প্রতিবন্ধী হলেও কারও কাছে হাত পাততে চান না। দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য গাছে ওঠা ও কাজ করা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি আমাদের একটি মুদি দোকান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করত, তাহলে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোনোভাবে সংসারটা চালাতে পারতাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কটিয়াদী উপজেলা, কিশোরগঞ্জ, মসূয়া ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামাল হোসেন (৪২), পারভিন আক্তার, মোস্তফা কামাল (সমাজসেবক), সোহেল মিয়া (ইউনিয়ন সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ বছর বয়স, ১২ বছর বয়সে কাজ শুরু, ৩০+ বছর ধরে গাছ ছাঁটাই, ৪০ ফুট দড়ি, ৫০০-১০০০ টাকা দৈনিক আয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!