📌 ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় সার সংকটে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করে। সরকারি ডিলারদের অসহযোগিতা ও চড়া দামের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসক ও কৃষি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন সারের ঘাটতি নেই, কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ অব্যাহত।
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় চলতি আমন ধানের মৌসুমে সার সংকটে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করে। সকালে গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে কৃষকদের বিক্ষোভে সড়ক অবরোধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সার ডিলারদের অসহযোগিতা ও দাম বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে যা কৃষকদের জন্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সড়ক অবরোধ: শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে কৃষকরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়ক অবরোধ করে।
- 📌 সার অভাবের অভিযোগ: কৃষকদের দাবি, সরকারি ডিলার পয়েন্টে সার না পাওয়ার কারণে তারা খোলা বাজারে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
- 📌 দাম বৃদ্ধি: ৫০ কেজির ইউরিয়া সারের সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা, কিন্তু খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়।
- 📌 অসহযোগিতা: কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা এক দিনে মাত্র এক ধরনের সার দিচ্ছেন এবং সময় ও অর্থের হয়রানি করছেন।
- 📌 জেলা প্রশাসনের নিশ্চয়তা: জেলা প্রশাসক ও কৃষি কর্মকর্তারা সারের ঘাটতি নেই বলে দিয়েছেন, কিন্তু কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে।
📰 বিস্তারিত
আজ শনিবার সকালে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার নিতে আসা কৃষকদের ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষকরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। এই অবরোধে সড়ক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার দেওয়ার বিষয় নিশ্চিত করলে অবরোধ তুলে নেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ডিলার পয়েন্টে সার না পাওয়ার কারণে তারা খোলা বাজারে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, ৫০ কেজির ইউরিয়া সারের সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা, কিন্তু খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। একইভাবে, ১ হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি সার খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। আর ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়।
কৃষকদের অভিযোগ আরও রয়েছে যে, ডিলাররা এক দিনে মাত্র এক ধরনের সার দিচ্ছেন এবং সময় ও অর্থের হয়রানি করছেন। কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, সাবডিলার পয়েন্টে গেলে এক দিনে মাত্র এক ধরনের সার দেওয়া হচ্ছে। সার নিতে লাইন ধরতে হচ্ছে। কিন্তু বেশি টাকা দিলে খোলা বাজারে সারের অভাব নেই। অন্যদিকে, কৃষক আসলাম হোসাইন বলেন, তিনি স্থানীয় ডিলার সোহরাব হাজীর ঘরে সার নিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু এক বস্তার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ইউরিয়া দিয়েছে মাত্র ২০ কেজি।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেছেন, সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানিয়েছেন, সারের কোনো সংকট নেই, তবে ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"সারের কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা সব সময় খোঁজ রাখছি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
— মো. কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা, গাড়াগঞ্জ বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষকদের, ডিলারদের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মো. কামরুজ্জামান, নোমান হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ কেজি, ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ১ হাজার ৭৫০ টাকা, ১ হাজার ৬৫০ টাকা, ২০ কেজি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!