📌 সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের প্রতিবন্ধী হারুন যমুনার ভাঙনে হারিয়ে ফেলেছেন নিজের বাড়ি ও সম্পত্তি। এখন তিনি ও তার পরিবার অন্যের জায়গায় টিনের ঘরে বসবাস করছেন এবং ছোট্ট মুদি দোকান থেকে দিনের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন। দোকান থেকে ২০০-২৫০ টাকা আয় এবং প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে চারজনের সংসার টিকিয়ে রাখতে কষ্ট পাচ্ছেন তিনি
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ী চরে বসবাসকারী ২৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী হারুনের একমাত্র আশ্রয় হলো ছোট্ট একটি মুদি দোকান। যমুনার প্রমত্তা ভাঙনে হারিয়ে ফেলেছেন নিজের বাড়ি ও সম্পত্তি। এখন তিনি ও তার পরিবার অন্যের জায়গায় টিনের ঘরে বসবাস করছেন এবং দিনের খরচ চালানোর জন্য দোকান থেকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করছেন। এই ছোট্ট দোকানটিই তাঁর পরিবারের একমাত্র ভরসা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী হারুন** যমুনার ভাঙনে হারিয়ে ফেলেছেন নিজের বাড়ি ও সম্পত্তি, এখন অন্যের জায়গায় টিনের ঘরে বসবাস করছেন।
- 📌 **ছোট্ট মুদি দোকান** থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করে তিনি পরিবারের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।
- 📌 **প্রতিবন্ধী ভাতা** পেয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা পেলেও দারিদ্র্যের কারণে সংসার টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 **ছোটবেলায় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা** করেছেন হারুন, কিন্তু নদীভাঙন ও দারিদ্র্যের কারণে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।
- 📌 **বাবা-মা ও এক ভাগনিকে নিয়ে চারজনের সংসার** টিকিয়ে রাখার জন্য বিয়ে করেছিলেন হারুন, কিন্তু অভাবের কারণে এক বছরও টেকেনি সেই সম্পর্ক।
- 📌 **কাজীপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজ্জামেল হক বকুল** বলেছেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নদীভাঙন রোধ ও পুনর্বাসন প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ী চরে অবস্থিত হারুনের বাড়ি ছিল যমুনার পাড়ে। কিন্তু কয়েক বছর আগে প্রমত্তা যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে তাঁদের বাপ-দাদার বাড়ি। এখন অন্যের জায়গায় টিনের ঘর তুলে বসবাস করছেন হারুন ও তার পরিবার। নিজের বলতে কোনো জায়গা-জমি নেই। হারুনের বাবা সাত্তার শেখ বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। দোকানের কাজে তাঁকে সহযোগিতা করছেন তিনি।
হারুন বলেন, ‘আমাদের বাড়ি নদীর পাশেই ছিল। বছর খানেক আগে নদীতে ভেঙে গেছে। এরপর অন্যের জায়গায় ঘর তুলে থাকছি। নিজের জায়গা-জমি কিছুই নেই।’ ছোটবেলায় তিনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু নদীভাঙন ও দারিদ্র্যের কারণে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।
দিনের খরচ চালানোর জন্য হারুন প্রতিদিন সকাল থেকে ছোট দোকানটিতে বসেন। দোকান থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় হয়। দোকানের আয় আর তিন মাস পরপর ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়ে তিনি সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু অভাবের কারণে সংসার টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হারুন বলেন, ‘দোকানের আয় আর তিন মাস পরপর ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। সব মিলিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়।’ সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় বিয়ে করেছিলেন হারুন। কিন্তু অভাবের সংসারে এক বছরও টেকেনি সেই সম্পর্ক। এক বছর পর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান।
হারুনের পাশে বসে থাকা বৃদ্ধ বাবা সাত্তার শেখের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে গেছে। তাঁদের কষ্ট দেখলে ভালো লাগে না।’
"চরের মানুষের অনেক কষ্ট। নদীভাঙনে অনেকের ঘরবাড়ি চলে গেছে। মানুষের সমস্যাগুলো সরকার খোঁজ নিয়ে সমাধান করলেই আমি খুশি।"
হারুনের মতো চরাঞ্চলের অনেক মানুষই প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন। নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারানো এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কাজীপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজ্জামেল হক বকুল। তিনি বলেছেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নদীভাঙন রোধ, পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাজীপুর উপজেলা, সিরাজগঞ্জ, খাসরাজবাড়ী চর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হারুন (২৮ বছর, প্রতিবন্ধী), সাত্তার শেখ (বৃদ্ধ), অধ্যক্ষ মোজ্জামেল হক বকুল (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ বছর (বয়স), ২০০-২৫০ টাকা (দৈনিক আয়), ২ হাজার ৫০০ টাকা (প্রতিবন্ধী ভাতা), ২-৩ হাজার টাকা (মুদি পণ্যের মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!