📅 ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

চার বছর বয়সী শিশু পার্কে লুকিয়ে খেলে, বাবার হাতে ভিক্ষা করতে বাধ্য: শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নের পেছনে দুঃখের গল্প

চার বছর বয়সী শিশু পার্কে লুকিয়ে খেলে, বাবার হাতে ভিক্ষা করতে বাধ্য: শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নের পেছনে দুঃখের গল্প

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 বাহাদুর শাহ পার্কের কোণে বসবাসকারী পারভিন নামের চার বছর বয়সী শিশুকে তার বাবা ভিক্ষা করতে বাধ্য করছেন। শিশুটি প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে ফিরে আসলে বাবা তাকে মারধর করেন। পারভিনের স্বপ্ন হলো শিক্ষক হওয়া, কিন্তু তার পরিবার দুর্ভোগে ভুগছে

বাহাদুর শাহ পার্কের ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা কোণে চার বছর বয়সী পারভিন নামের একটি শিশু লুকিয়ে খেলছিল। তার বাবা তাকে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলতে পাঠানোর জন্য বাধ্য করছেন। শিশুটি প্রতিদিন ভিক্ষা করতে গিয়ে ফিরে আসলে বাবা তাকে মারধর করেন। পারভিনের স্বপ্ন হলো শিক্ষক হওয়া, কিন্তু তার পরিবার দুর্ভোগে ভুগছে।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 **পারভিন** নামের চার বছর বয়সী শিশুকে তার বাবা প্রতিদিন ভিক্ষা করতে বাধ্য করছেন। শিশুটি লুকিয়ে পার্কে খেলে থাকলে বাবা তাকে মারধর করেন।
  • 📌 শিশুটির বাবা **মুন্না** তার স্ত্রী ও চার মেয়েকে (পারভিন, ফাতেমা, রোজা, পান্না) ভিক্ষা করতে পাঠান। টাকা না তুললে শিশুদের মারধর করা হয়।
  • 📌 পারভিনের স্বপ্ন হলো **শিক্ষক হওয়া**। সে বলে, ‘আমি লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে চাই। বড় হয়ে স্যার হতে চাই। সবাইরে পড়াইতে চাই।’
  • 📌 শিশুটির **মাথা ও ঘাড়ে ফোড়া** হয়েছে, মুখের ভেতরেও ঘা। কিন্তু বাবা তাকে ওষুধ কিনতে দেন না।
  • 📌 পারভিনের মা বলেন, ‘মেয়েদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা উকিল বানাতে চাই। কিন্তু এভাবে রাস্তায় থাকতে আর ভালো লাগে না।’
  • 📌 পরিবারটি **মাদারীপুরের গ্রাম থেকে বাহাদুর শাহ পার্কে** প্রায় চার বছর ধরে বসবাস করছে। বাবা আগে রিকশা চালাতেন, কিন্তু চুরি হয়ে যাওয়ার পর কাজ পাচ্ছেন না।

📰 বিস্তারিত

বাহাদুর শাহ পার্কের এক কোণে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিয়ে খেলছিল পারভিন। বয়স মাত্র চার বছর। এই বয়সে একটি শিশুর নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার কথা থাকলেও তার দিন কাটে পার্কের কোণে কিংবা ফুটপাতে। কথায় কথায় পারভিনের কাছে তার মা-বাবার কথা জানতে চাওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে বলা হয়, ‘চলো, তোমার বাবার কাছে যাই।’ কথাটি শুনতেই বদলে যায় শিশুটির মুখ। ভয় পেয়ে সে বলে, ‘আব্বার কাছে যামু না, গেলেই মারব।’

জানতে চাইলে পারভিন জানায়, বাবা তাকে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলতে পাঠিয়েছে। কিন্তু সে টাকা না তুলে লুকিয়ে পার্কে খেলছে। শিশুটির ভাষায়, ‘আব্বা আমারে টাকা তুলতে বলছে, আমি না গিয়ে লুকাইয়া লুকাইয়া এখানে খেলতাছি।’ পারভিনের বাবা তখন পার্কের ভেতরে ঘুমাচ্ছিলেন। আর মা রায়সাহেব বাজারে কলম বিক্রি করছিলেন। পারভিনের আরও তিন বোন আছে — ফাতেমা, রোজা ও পান্না।

পারভিনের বাবা ঘুম থেকে উঠে পড়লে জানা যায়, সকাল থেকে পেটে খাবার পড়েনি শিশুটির। ক্ষুধার কথা শুনে তার বাবার অনুমতি নিয়ে তাকে রুটি কিনে দেন প্রতিবেদক। কিন্তু সেই রুটিও বেশিক্ষণ তার কাছে থাকেনি। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, মেয়ের হাত থেকে রুটি নিয়ে খাচ্ছেন বাবা। তবে এতে শিশুটি মন খারাপ করেনি; বরং মুখে হাসি লেগেছিল।

পারভিনের মা জানান, প্রতিদিন ভাত খাওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলতে হয় তার মেয়েদের। বিকেলে বাবা সেই টাকার হিসাব নেন। টাকা তুলতে না পারলে শুধু পারভিন নয়, তার অন্য বোনদেরও মারধর করা হয়। পারভিনের মা বলেন, ‘মেয়েরা টাকা রোজগার করতে না পারলে স্বামী বকাবকি করেন। এ নিয়ে তাঁকেও মারধর করা হয়।’

শিশুটির স্বাস্থ্যও খারাপ। বেশ কিছুদিন ধরে তার মাথা ও ঘাড়ে ফোড়া হয়েছে। মুখের ভেতরেও ঘা। পারভিনের আক্ষেপ, ‘অনেক দিন ধইরা বাপকে বলতেছি, আমার ঘাড়ে ও মাথায় ফোড়া হইছে। আমাকে ওষুধ কিনে দিতে। দিমু দিমু কইরা আর কিন্না দেয় না।’

"আমি লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে চাই। বড় হয়ে স্যার হতে চাই। সবাইরে পড়াইতে চাই।"

পারভিনের মা জানান, চার মেয়েকে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের ডাক্তার–ইঞ্জিনিয়ার–উকিল বানাতে চাই। প্রয়োজনে মানুষের বাসায় কাজ করে হলেও তাদের পড়াতে চাই। এভাবে রাস্তায় রাস্তায় থাকতে আর ভালো লাগে না। অল্প কিছু টাকা জমাইতে পারলে তাদের নিয়া বাড়ি ফিরা যামু। নাহয় কেউ আর্থিক সহায়তা করলে মেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারতাম।’

পারভিনের বাবা মুন্না আগে রিকশা চালাতেন। তাঁর দাবি, রিকশা চুরি হয়ে যাওয়ার পর তিনি কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘কেউ কাজ দিলে করতে চাই। বাধ্য হয়ে বউ–বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছি। আমিও চাই আমার মেয়েরা লেখাপড়া করুক।’

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: বাহাদুর শাহ পার্ক, ঢাকা
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পারভিন (৪ বছর), মুন্না (বাবা), পারভিনের মা
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ বছর (পারভিনের বয়স), ৪ বছর (পার্কে বসবাস), ৪ জন মেয়ে (পারভিন, ফাতেমা, রোজা, পান্না)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖