📌 ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই ছেলের আলাদা সংসারে স্থান না পেয়ে জরাজীর্ণ ঘরে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন ৭৮ বছর বয়সী সালেহা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে অনিয়মিত খাবার ও অবহেলার শিকার তিনি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের উত্তর পাড়ায় নিজের স্বামীর রেখে যাওয়া জরাজীর্ণ ঘরে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন সালেহা বেগম (৭৮)। তাঁর দুই ছেলে আলাদা বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার গড়লেও তাঁর জন্য জায়গা হয়নি সেই বাড়িতে। কয়েক দিন আগেও তাঁর ঘরে বিদ্যুতের আলো ছিল না। অনিয়মিত খাবারের কারণে প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয় তাঁকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সালেহা বেগমের দুই ছেলে আলাদা বাড়িতে থাকলেও তাঁকে সেই বাড়িতে স্থান দেওয়া হয়নি
- 📌 স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে জরাজীর্ণ ঘরে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন তিনি
- 📌 কয়েক দিন আগেও তাঁর ঘরে বিদ্যুতের আলো ছিল না
- 📌 দুই ছেলে কৃষিকাজ ও বিদেশে কাজ করে সচ্ছল হলেও মায়ের প্রতি অবহেলা দেখাচ্ছেন
- 📌 সালেহা বেগমের স্বামী মতলেব আলী মল্লিক পাঁচ বছর আগে হৃদরোগে মারা যান
📰 বিস্তারিত
সালেহা বেগমের স্বামী মতলেব আলী মল্লিক পাঁচ বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁদের তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে একটি মেয়ে ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বাকি দুই মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে চলে গেছেন। বড় ছেলে আহাদ আলী (৫০) ও ছোট ছেলে অমেদ আলী (৪৫) আলাদা বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার গড়েছেন। কিন্তু তাঁরা মাকে নিজেদের বাড়িতে স্থান দেননি। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে সালেহা বেগম একা হয়ে পড়েন।
গত বুধবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ঘরের সামনে পলিথিন দিয়ে ঘেরা চালার মধ্যে বসে আছেন সালেহা। পাশে একটি থালায় কিছু খাবার রাখা ছিল। তিনি জানান, রাতে দেওয়া খাবার সকালে খাওয়ার জন্য রেখেছেন। তিনি অনুরোধ করেন, ‘ছেলেদের বুঝিয়ে তাদের বাড়িতে আমাকে তুলে দিতে পারো? আমি আর একা থাকতে পারছি না।’
সালেহা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই ছেলে কৃষিকাজের পাশাপাশি বিদেশে গিয়ে টাকা আয় করে এখন সচ্ছল হয়ে সংসার ভাগ করে ফেলেছেন। তাঁদের বাবা মাঠে ৭ থেকে ৮ বিঘা জমি রেখে গেছেন, যা তাঁরা ভোগ করছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেরা নতুন বাড়ি করলে সেই বাড়িতে তাঁর জায়গা হবে বলে আশা করেছিলেন তিনি; কিন্তু ছেলেরা তাঁকে বাড়িতে তোলেননি।
প্রতিবেশী আতিয়ার রহমান মল্লিক জানান, সালেহা বেগম তাঁর বড় ভাবি। ছেলেরা তাঁকে বাড়িতে আশ্রয় দিতে চান না। পাড়ায় একদিন সবাই বসে বাড়িতে নেওয়ার জন্য দুই ভাইকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুই ভাই-ই এটা তাঁদের পক্ষে সম্ভব না বলে জানিয়ে দেন।
"ছেলেরা খাবার না দিলে না খেয়ে থাকতে হয়। একা থাকতে খুব ভয় হয়; কিন্তু তাঁর যাওয়ার জায়গা নেই। ছেলেরা বাড়িতে নিলে ভালো হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাতিবিলা গ্রাম, উত্তর পাড়া, কালীগঞ্জ উপজেলা, ঝিনাইদহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালেহা বেগম (৭৮), আহাদ আলী (৫০), অমেদ আলী (৪৫)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৮ বছর (সালেহা বেগম), ৫০ বছর (আহাদ আলী), ৪৫ বছর (অমেদ আলী), ৭ থেকে ৮ বিঘা জমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!