📌 শালুকদিয়া গ্রামের চিত্রা নদীর ঘাটে প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগে আসেন বৃদ্ধ রহিম উদ্দিন। তাঁর নীরব উপস্থিতি আর প্রতিদিন একই সময়ে ওপারের আলো জ্বলার দৃশ্য গ্রামবাসীর কাছে রহস্যময় হয়ে উঠেছে
শালুকদিয়া গ্রামের চিত্রা নদীর ঘাটে প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগে আসেন এক বৃদ্ধ। তাঁর নাম রহিম উদ্দিন, গ্রামের সবাই যাকে রহিম চাচা বলে ডাকে। বার্ধক্যের ভার তাঁর চলনে স্পষ্ট হলেও সময়ের প্রতি তাঁর নিয়মানুবর্তিতা বিস্ময়কর। সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়লেই তিনি ধীরে ধীরে ঘাটে এসে একই জায়গায় বসেন। তাঁর চোখ থাকে নদীর ওপারের দিকে, যেখানে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে একটি বাড়ির উত্তরমুখী জানালায় জ্বলে ওঠে মায়াবী আলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শালুকদিয়া গ্রামের চিত্রা নদীর ঘাটে প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগে আসেন বৃদ্ধ রহিম উদ্দিন
- 📌 তাঁর চলনে বার্ধক্যের ক্লান্তি থাকলেও সময়ের প্রতি রয়েছে অদ্ভুত নিয়মানুবর্তিতা
- 📌 সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়লেই তিনি ঘাটে এসে একই জায়গায় বসেন
- 📌 নদীর ওপারের একটি বাড়ির উত্তরমুখী জানালায় সন্ধ্যায় জ্বলে ওঠে মায়াবী আলো
- 📌 রহিম চাচা সেই আলোর দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকেন, তারপর ধীরে ধীরে ফিরে যান
📰 বিস্তারিত
চিত্রা নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়, এক রহস্যের নাম। গ্রামের নাম শালুকদিয়া, যেটি কোনো বড় মানচিত্রে খুঁজে পাওয়া যায় না। বিকেলের শেষ আলো যখন এই গ্রামের গায়ে পড়ে, তখন মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত সন্ধ্যা যেন এখানেই থেমে গেছে। চিত্রা এখানে বাঁক নিয়েছে, আর সেই বাঁকে রয়েছে একটি পুরোনো ঘাট। বহু আগেই এখানে নৌকার আনাগোনা কমে গেছে। ঘাটের শেওলা ধরা ভাঙা সিঁড়িগুলো বর্ষায় ডুবে যায়, শীতে ধুলোমাখা হয়ে ওঠে। ঘাটের এক পাশে রয়েছে একটি প্রাচীন কড়ইগাছ, যেখানে ঋতুবদলের খেলা চলে।
প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগে রহিম চাচা ঘাটে আসেন। তাঁর পরনে থাকে আটপৌরে লুঙ্গি আর ধূসর পাঞ্জাবি। হাতে থাকে একটি লাঠি। গ্রামের মানুষ জানে, সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়লেই তিনি বাড়ি থেকে বের হন। ধীরে ধীরে কাঁচা পথ পেরিয়ে ঘাটে এসে একই জায়গায় বসেন। কেউ তাঁকে ডাকলেও বিরক্ত হন না। মৃদু হেসে মাথা নাড়েন। তাঁর চোখ থাকে নদীর ওপারের দিকে, যেখানে কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। বাঁশঝাড়ের ফাঁকে আম-কাঁঠালের ছায়ায় সেগুলো দেখা যায়।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ওপারের একটি বাড়ির উত্তরমুখী জানালায় জ্বলে ওঠে দারুণ এক মায়াবী আলো। আলোটি কখনো কেরোসিনের প্রদীপের মতো হলুদ, কখনো জোনাকির মতো নরম। রহিম চাচা সেই আলোর দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকেন। তারপর ধীরে ধীরে লাঠির ওপর ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ান। নদীর দিকে এমনভাবে তাকান যেন নিঃশব্দে কাউকে কিছু জানিয়ে গেলেন। তারপর ফিরে যান।
"সব প্রশ্নের উত্তর সব সময় জানতে নেই। কিছু উত্তর সময় নিজেই বলে দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শালুকদিয়া গ্রাম, চিত্রা নদীর ঘাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রহিম উদ্দিন (রহিম চাচা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রতিদিন সূর্যাস্তের আগে ঘাটে আসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!